আর মাত্র কয়েকঘন্টা। তারপরেই বৈঠক শেষে জানা যাবে বাংলার ভাবি মুখ্যমন্ত্রীর নাম। শুধু মুখ্যমন্ত্রী নয় বাংলায় এবার দুই উপমুখ্যমন্ত্রী দিয়ে চমক দিতে চায় গেরুয়া সরকার। এই আবহেই শঙ্কর ঘোষ এবং অগ্নিমিত্রা পালের নাম ঘিরে তৈরি হচ্ছে জল্পনা। বিজেপি সূত্রে জানা গেছে, রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলের ভারসাম্য রক্ষা এবং দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণের কথা মাথায় রেখে দুই উপ-মুখ্যমন্ত্রীর ফর্মুলা নিয়ে আলোচনা চলছে।
আরও পড়ুনঃ ‘অধিকারীর’ হাতেই বাংলার অধিকারের রাশ
শঙ্কর ঘোষ উত্তরবঙ্গের প্রভাবশালী নেতা। শিলিগুড়ি থেকে গৌতম দেবের বিরুদ্ধে বড় ব্যবধানে জয়ী এই নেতা দলে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। অন্যদিকে অগ্নিমিত্রা পাল নারী নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে উঠে এসেছেন। আসানসোল দক্ষিণ থেকে জয়ী এই নেত্রী দলের মধ্যে নতুন প্রজন্মের মুখ হিসেবে পরিচিত। তাঁকে উপ-মুখ্যমন্ত্রী করলে নারী ভোট এবং দক্ষিণবঙ্গের ভারসাম্যও রক্ষা পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই জল্পনা থেকে স্বাভাবিকভাবেই শুভেন্দু অধিকারীর নাম আরও জোরালো হয়ে উঠছে। যিনি নন্দীগ্রাম ধরে রেখে ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে ‘জায়ান্ট কিলার’ খেতাব পেয়েছেন, তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী করার পক্ষে দলের অভ্যন্তরে ব্যাপক সমর্থন রয়েছে। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে দেখছে। দুই উপ-মুখ্যমন্ত্রী থাকলে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব আরও সুষ্ঠুভাবে সামলানো যাবে এবং দলের বিভিন্ন অংশকে সন্তুষ্ট রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ শপথমঞ্চে দুর্গামূর্তি-সিঁদুরখেলা, পাতে ঝালমুড়ি-রসগোল্লা, মিহিদানা, সীতাভোগ, বাজবে রবীন্দ্রসঙ্গীত!
রাজ্য বিজেপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, ৯ মে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের আগে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে। অমিত শাহ-সহ কেন্দ্রীয় নেতারা ইতিমধ্যে কলকাতায় পৌঁছেছেন এবং বিধায়কদের বৈঠক চলছে। শুভেন্দু অধিকারী নিজে এখনও কোনো মন্তব্য করেননি, তবে তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে দল যে সিদ্ধান্ত নেবে, তিনি তাতে সামিল হবেন।এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দুই উপ-মুখ্যমন্ত্রীর ফর্মুলা বিজেপির কৌশলগত সিদ্ধান্ত।
এর মাধ্যমে উত্তর-দক্ষিণ ভারসাম্য, নারী প্রতিনিধিত্ব এবং অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটবে। শঙ্কর ঘোষের অভিজ্ঞতা এবং অগ্নিমিত্রা পালের জনপ্রিয়তা মিলিয়ে একটি শক্তিশালী টিম গড়ে তোলা যাবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হাতেই।সাধারণ মানুষের মধ্যে এখন উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষণীয়। অনেকেই বলছেন, নতুন সরকার যদি স্বচ্ছতা, উন্নয়ন এবং আইনশৃঙ্খলার ওপর জোর দেয় তাহলে বাংলার চেহারা বদলে যাবে। তবে তৃণমূল কংগ্রেস এখনও পরাজয় মেনে নিতে পারেনি। তারা বিভিন্ন অভিযোগ তুলছে।


