মেট্রোর কোচ। নেই প্রতিদিনের ভিড়-ভাট্টা। নেই অফিস যাওয়া কিংবা বাড়ি ফেরার তাড়া। চারিদিকে শুধুই আলোর ঝলকানি, ক্যামেরার সামনে প্রিয় মানুষের হাত ধরে পোজ়…ভাবছেন কাল্পনিক চিন্তা-ভাবনা? একেবারেই নয়। এবার থেকে প্রি-ওয়েডিং ডেস্টিনেশন কিন্তু হতে পারে মেট্রোও। হ্যাঁ ঠিকই পড়ছেন। মেট্রো রেলের তরফে জানানো হয়েছে, এবার থেকে মেট্রোর কোচে পালন করতে পারবেন নানারকম সামাজিক অনুষ্ঠান, এই ধরুন জন্মদিন বা বিবাহবার্ষিকী। আবার বিয়েও হতে পারে। এছাড়া বিভিন্ন প্রোডাকশন হাউজ়ও শুটিং করতে পারবেন। তবে, সব জায়গার মেট্রো রেলের জন্য এই বিশেষ ব্যবস্থা থাকছে না।
আরও পড়ুনঃ ভাগ্নির হাত ধরেই শুরু হয় জন্মদিন পালন
মধ্যপ্রদেশ মেট্রো রেল কর্পোরেশন লিমিটেড (এমপিএমআরসিএল) ভোপাল ও ইন্দোর মেট্রো রুটের জন্য ‘সেলিব্রেশন অন হুইলস’ চালু করেছে। উভয় রুটে যাত্রী সংখ্যা কম থাকায় রাজস্ব বাড়ানোর লক্ষ্যে এই নতুন কর্মসূচিটি গ্রহণ করা হয়েছে। রেলের তরফে জানানো হয়েছে, আপনার বিশেষ অনুষ্ঠানের জন্য মেট্রো কোচ এবং স্টেশনের নির্দিষ্ট এলাকা বুক করতে হবে। বুকিংয়ের টাকাটাও বেশ কিছু বিষয়ের উপর নির্ভর করে ধার্য করা হয়েছে।
কমপক্ষে ১৫ দিন আগে বুকিং করতে হবে। এবং সব সময়সূচী, নিরাপত্তা ও নির্দেশিকা মেনে চলতে হবে। মদ, বিড়ি, সিগারেট ও আতশবাজি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। অংশগ্রহণকারীদের মেট্রোতে ওঠার অনুমতি দেওয়ার আগে স্টেশনে নিরাপত্তা তল্লাশি চালানো হবে। প্রতি ঘণ্টার ভাড়া ৫,০০০ থেকে ৭,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তা বিভিন্ন বিষয়ের উপর নির্ভর করে ঠিক করা হবে।
আরও পড়ুনঃ ‘চোখে ঠুলি বেঁধে থেকো না…’, মমতাকে ধৃতরাষ্ট্র বলে খোঁচা ফিরহাদের মেয়ের
এই বিশেষ ব্যবস্থায় চলচ্চিত্রের শুটিং, ওয়েব সিরিজ, তথ্যচিত্র, বিজ্ঞাপন, জন্মদিনের পার্টি, কিটি পার্টি, প্রি-ওয়েডিং শুট, ফটোশুট এবং অন্যান্য সৃজনশীল কাজের অনুমতি দেওয়া হবে। জন্মদিনের পার্টি, প্রাক-বিবাহ অনুষ্ঠান এবং কিটি পার্টির জন্য সর্বোচ্চ ৫০ জন অংশগ্রহণকারীকে অনুমতি দেওয়া হবে। এই সংখ্যা অতিক্রম করলে, মেট্রোর সাধারণ ভাড়া এবং অতিরিক্ত চার্জ প্রযোজ্য হবে। এছাড়াও, প্রতিটি কোচের জন্য বুকিং করার সময় অগ্রিম ছাড়াও ২০ হাজার টাকা জমা রাখতে হবে। পরে তা ফেরত পাওয়া যাবে।
জানা গিয়েছে, ভোপাল ও ইন্দোরের মেট্রো পরিষেবায় যাত্রীর সংখ্যা খুবই কম। সপ্তাহের দিনগুলিতে ২০০ জনেরও কম যাত্রী মেট্রো ব্যবহার করেন। তবে, সপ্তাহান্তে এই সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে যায়, কিন্তু সাধারণ দিনগুলিতে ট্রেনগুলি প্রায়শই খালিই থাকে। জানা গিয়েছে, সরকার মেট্রো পরিচালনা, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক খাতে প্রতিদিন প্রায় ৮ লক্ষ টাকা খরচ করলেও দৈনিক আয় ১০,০০০ টাকাও ছুঁতে পারছে না। তাই এই ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


