নতুন সরকার গঠনের পর ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ তোলায় বিধানসভায় তৃণমূলকে নিশানা মানিকতলার বিজেপি বিধায়ক তাপস রায়ের। নাম না করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করলেন তিনি। মানিকতলার বিজেপি বিধায়ক বললেন, “বিজেপি তাঁর কিছু করবে না। জনগণ ও তৃণমূলই তাঁর ব্যবস্থা করবে।” একইসঙ্গে তিনি বলেন, তৃণমূল ফের ক্ষমতায় এলে এতদিনে ১৫০ জন বিজেপি কর্মী খুন হতেন
আরও পড়ুনঃ ‘নায়ক’ স্টাইল! ‘মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবার’ আপনার পাশে মুখ্যমন্ত্রী
শুক্রবার বিধানসভায় স্পিকার নির্বাচন ছিল। বিজেপির রথীন্দ্র বসু স্পিকার নির্বাচন হওয়ার পর বিভিন্ন দলের বিধায়করা বক্তব্য রাখছিলেন। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আগাগোড়া তৃণমূলকে বিঁধলেন তাপস রায়। নিজের বক্তব্যের শুরুতে তৃণমূল বিধায়কদের দিকে তাকিয়ে তাপস বলেন, “দেখো, দেখো। অনেক তো করেছ। এবার দেখতে খারাপ লাগছে নাকি?” এরপরই তিনি বলেন, “এটা শুধুমাত্র সরকার গড়ার আর নির্বাচিত হয়ে আসার নির্বাচন ছিল না। এটা ছিল ধর্মযুদ্ধ। আর সেই ধর্মযুদ্ধে যাঁরা জিতে এসেছেন, তাঁদের অভিনন্দন জানাই।”
নবনির্বাচিত স্পিকার রথীন্দ্র বসুর উদ্দেশে তাপস রায় বলেন, “স্যার, একটা জিনিস করতে হবে। এই সদনে কোনও রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান, দেশবিরোধী স্লোগান চলবে না। আইন করে বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে বিল এনে।” তাপস রায়ের বক্তব্যে টেবিল চাপড়ে সমর্থন জানাতে দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে।
বিগত সরকারকে তোপ দেগে মানিকতলার বিধায়ক বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ শাপমুক্ত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ পাপমুক্ত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ ভয়মুক্ত হয়েছে।” ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা হয়েছে। গতকাল আদালতে আইনজীবীর পোশাকে হাজির হয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নাম না করে তাপস রায় বলেন, “গতকাল কেউ হাইকোর্টে গিয়েছিলেন।”
এরপরই অভিষেকের নাম না করে তাপস রায় বলেন, “সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ব্লক অঞ্চল থেকে বিজেপি প্রার্থীদের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। যদিও বাংলার দল তার আবার সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।” এই বক্তব্য শুনে তৃণমূল বিধায়করা শোরগোল করলে তাপস বলেন, “থামুন। বলা যায় না আবার। সব বলা যায়। বলতে দিতে হবে।” বলেই তিনি বলেন, “কারও নাম করিনি। সে বলেছিল, হাড়গোড় ভেঙে দেওয়া হবে। আমি বলব, সে যেন এবার বেরোয়। বিজেপি কিছু করবে না। তার ব্যবস্থা জনগণ ও তৃণমূলই করবে।”
আরও পড়ুনঃ ‘৪ দশকের আনুগত্যের পুরস্কার’, পদ খুইয়ে বেসুরো কাকলি
তৃণমূলের ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ নিয়ে তাপস বলেন, “নির্লজ্জ, বেহায়া না হলে আজকে ভোট পরবর্তী হিংসা এদের মুখে আসে। এর আগে একটাও রক্তপাতহীন, লাশহীন নির্বাচন হয়েছে? রক্তের উপর দিয়ে ভি সাইন দেখিয়েছে। স্যার, আজকে দেড়শোর উপর লাশ আপনাকে গুনতে হত বিজেপির। যদি এরা ক্ষমতায় ফিরে আসত। বাড়ি জ্বালিয়ে দিত। আর লক্ষ লক্ষ বিজেপি কর্মী সমর্থক বাড়িছাড়া থাকত।”
একসময় তৃণমূলে ছিলেন তাপস রায়। একুশের নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে বরাহনগর থেকে জিতেছিলেন। চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনের আগে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। একুশের ভোট পরবর্তী হিংসায় তিনি জড়িত ছিলেন না জানিয়ে তাপস বলেন, “আমি যদি ভোট পরবর্তী হিংসায় জড়িত থাকি, আমার নাম থাকে, আমাকে জেলে পাঠাবেন।” “জয় শ্রীরাম, ভারত মাতার জয়” বলে বক্তব্য শেষ করেন বিজেপি এই বিধায়ক।


