বিশ্ব এক চরম অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে। বিশের দশক থেকে বিশ্বজুড়ে চলা একের পর এক অস্থিরতা পরিস্থিতিকে প্রতিনিয়ত আরও জটিল করে তুলেছে। করোনা থেকে শুরু করে বর্তমানে জ্বালানি সংকট…বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে বিশ্বের অর্থনীতি। তবে, এই পরিস্থিতির যদি দ্রুত উন্নতি না হয় তাহলে অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়বে। চরম দারিদ্র্যতা নেমে আসতে পারে। নেদ্যারল্যান্ডসে দ্য হেগ শহরে সে দেশে বসবাসকারী প্রবাসী ভারতীয়দের এক অনুষ্ঠানে বিশ্বের এই সামগ্রিক বাস্তব পরিস্থিতিকেই তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একইসঙ্গে এই দশককে বিপর্যয়ের দশক বলে উল্লেখ করলেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ হরগোবিন্দ-চন্দনদের ভুলে তপসিয়ার পাশে সিপিএম
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মতে, বিশের দশক একেবারেই বিশ্বের অর্থনীতির জন্য ভাল নয়। একের পর এক বিপর্যয় নেমে এসেছে। এই সময়টা এখন আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং গোটা বিশ্বের জন্য।

হিন্দিতেই বক্তৃতা দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, “প্রথমে এল করোনা(ভাইরাস) মহামারী, তারপর যুদ্ধ শুরু হল, আর এখন রয়েছে জ্বালানি সংকট। এই দশকটি বিশ্বের জন্য বিপর্যয়ের দশকে পরিণত হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে,বিগত বহু দশকে যে সাফল্য অর্জন হয়েছে তা একমুহূর্তেই নষ্ট হয়ে যাবে। পরিস্থিতি দ্রুত সামাল না দিতে পারবে বিশ্বের জনসংখ্যার একটি বিশাল অংশ পুনরায় দারিদ্র্যের কবলে পড়বে।
আরও পড়ুনঃ অ্যাকশন মোডে পুলিশ! গার্ডেনরিচ থেকে ধৃত যুবক
জ্বালানি সংকট নিয়ে বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেক্ষেত্রে জ্বালানির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কয়েকদিন আগেই একাধিক পরামর্শ দিয়েছেন। প্রথমত দেশবাসীকে ওয়ার্ক ফ্রম করার আবেদন করেছেন। বাড়ি থেকে কাজ করার উপর জোর দিয়েছেন। ব্যক্তিগত যানবাহন ব্যবহার না করে গণপরিবহন ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন।
আগামী এক বছর সোনা কেনা থেকে বিরত থাকতে ও রান্নায় কম তেল ব্যবহারে আর্জি জানিয়েছিলেন। এদিকে, জ্বালানি সংকটের মধ্যেই পেট্রোল-ডিজ়েলের দাম বাড়িয়েছে কেন্দ্র। সব মিলিয়ে যে সংকটের ছবিটা তৈরি হয়েছে, তা আগামী দিনগুলিতে বিশ্বের অর্থনীতির জন্য আরও বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। মোদীর বক্তব্যে সেই ইঙ্গিত একেবারেই স্পষ্ট।


