বাড়ি না কি কোনো মুঘল স্থাপত্য? নামী দামী আসবাব থেকে শুরু করে কারুকার্য করা আসবাবপত্র, সব দেখে পুলিশেরই কার্যত চক্ষু চড়কগাছ। কিন্তু সবথেকে বড় চমক অপেক্ষা করছিল মাটির নিচে। ফেরার তৃণমূল নেতা শামিম আহমেদ ওরফে ‘বড়ে’-র শিবপুরের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গিয়ে এক রহস্যময় সুড়ঙ্গের হদিস পেল পুলিশ। অরূপ রায় ঘনিষ্ঠ এই নেতার রাজপ্রাসাদোপম বাড়ির অন্দরে এমন সুড়ঙ্গ কেন, তা নিয়ে দানা বেঁধেছে রহস্য।
আরও পড়ুনঃ খেজুরির হিজলি শরিফে শর্ট সার্কিটে আগুন; মিথ্যাচারের পর্দা ফাঁস পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের
বিলাসবহুল জীবন ও গোপন সুড়ঙ্গ
ভোট-পরবর্তী হিংসায় এক বিজেপি নেতার ওপর হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত শামিম আহমেদ। তাঁর সন্ধানেই এদিন শিবপুরের চওড়াবস্তি এলাকায় শামিমের ডেরায় হানা দেয় পুলিশ। বাড়ির ভেতরে ঢুকে আধিকারিকরা দেখেন চোখ ধাঁধানো বৈভব। বহুমূল্য পালঙ্ক থেকে শুরু করে ড্রেসিং টেবিল, সবকিছুই সিনেমার সেটের মতো। তল্লাশি চলাকালীন একটি গোপন সুড়ঙ্গের সন্ধান পাওয়া যায়। মনে করা হচ্ছে, বিপদে পড়লে পালানোর জন্যই এই গোপন পথ তৈরি করা হয়েছিল।
অভিযোগের তির কোথায়?
বিজেপির অভিযোগ, এলাকায় আধিপত্য বজায় রাখতে বিজেপি সংখ্যালঘু সেলের এক নেতার বাড়িতে হামলা চালিয়েছিল শামিম ও তাঁর দলবল। বোমাবাজির পাশাপাশি গুলি চালানোরও অভিযোগ রয়েছে। সেই ঘটনার পর থেকেই ফেরার এই নেতা। বিজেপির দাবি, শামিমের মতো অপরাধীদের মাথার ওপর হাত রয়েছে বিদায়ী মন্ত্রী অরূপ রায়ের।
আরও পড়ুনঃ “গোটা বাড়িটা অবৈধ!”; এ কি বলছে বাম-কংগ্রেস
সুর চড়িয়েছে বিজেপি
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই কটাক্ষ করতে ছাড়েননি বিজেপি নেতৃত্ব। মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, “এখন তো সুড়ঙ্গ বেরিয়েছে, এরপর টাকার পাহাড়ও বেরবে।” অন্যদিকে শিবপুরের বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ তোপ দেগে বলেন, “৫০০ বছরের পুরনো শহরকে নষ্ট করে দিয়েছে অরূপ রায়রা। প্রোমোটিং থেকে মাদক কারবার, সবেরই মাস্টারমাইন্ড তিনি। তাঁর ছত্রছায়াতেই শামিমের মতো অপরাধীরা তৈরি হয়েছে।”
পুলিশের অনুমান, এই সুড়ঙ্গ পথ দিয়ে কোনো গোপন কাজ বা অপরাধীদের পালানোর সুযোগ করে দেওয়া হতো। বর্তমানে শামিমের খোঁজে তল্লাশি জারি রেখেছে শিবপুর থানার পুলিশ।


