‘লেডি উইথ দ্যা ল্যাম্প’, সেবাব্রতে নিবেদিতা এমন এক মহিলা যিনি বিশ্বে সেবা ও কল্যাণের সর্বজনীনতা নিয়ে বার্তা দিয়ে গেছেন। তাঁর জন্ম : ১২ মে, ১৮২০, প্রয়াণ : ১৩ আগস্ট ১৯১০। এ ছাড়াও ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল ছিলেন পরিসংখ্যানবিদ এবং লেখক। তাঁর জন্ম, ইতালির ফ্লোরেন্সে, সারা বিশ্বে তাঁর পরিচয় ‘ফ্লোরেন্স অফ্ নাইটিঙ্গেল’ বলে।
আরও পড়ুনঃ খেজুরির হিজলি শরিফে শর্ট সার্কিটে আগুন; মিথ্যাচারের পর্দা ফাঁস পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের
সেযুগে সেবিকার কাজ (নার্সিং) খুব সম্মানজনক না হওয়ায় বাবা মা’র আপত্তি ছিল এই বৃত্তিতে, নাইটিঙ্গেল নিজের স্বপ্ন পূরণের জন্যে বাড়ি ছেড়ে চলে যান। ১৮৫৩ সাল থেকে এক পা এক পা করে এগিয়ে ১৮৬০ সালে নিজের উদ্যোগে সংগৃহীত অর্থে প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘নাইটিঙ্গেল ট্রেনিং স্কুল’ যার বর্তমান নাম ‘ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল স্কুল অব নার্সিং’।
১৮৬৭ সালে নিউইয়র্কে চালু করেছেন ‘উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজ’। এর মধ্য ভারতের, ইংলন্ডের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা করেছেন, সেবাবৃত্তির ওপর গ্ৰন্থও রচনা করেছেন।
তাঁর জন্যে পুরস্কারের ছড়াছড়ি, ‘রয়েল রেডক্রস’ পদক, প্রথম নারী হিসেবে ‘অর্ডার অব মেরিট’ খেতাব , লন্ডন নগরীর ‘অনারারি ফ্রিডম’ উপাধি, এ ছাড়াও ১৯৭৪ সাল থেকে তার জন্মদিন ১২ মে পালিত হয়ে আসছে ‘ইন্টারন্যাশনাল নার্সেস ডে’।
আরও পড়ুনঃ সাইবার মামলায় গ্রেফতার বাংলাপক্ষের গর্গ
ফ্লোরেন্স নাইটিংগেলের সবচেয়ে বিখ্যাত এবং স্মরণীয় ঐতিহাসিক অবদান ছিল ক্রিমিয়ার যুদ্ধে, সরাসরি রণক্ষেত্রে যুদ্ধাহতদের করুণ অবস্থার মধ্যে প্রত্যক্ষ উপস্থিত হয়ে নির্ভয়ে, নিরলস সেবা করে যাওয়া। তিনি সঙ্গে করে নিয়ে যান কিছু প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত নার্স। যথেষ্ট খাবার জুটতো না, বিশ্রাম বা নিদ্রার অবকাশ ছিল না। অস্থির পরিস্থিতি, অসহায় অবস্থা… কিন্তু নাইটিঙ্গেলের অটুট মনোবল ও অসীম কর্তব্যবোধ ও সেবায় মৃত্যুর দোরগোড়া থেকে জীবনে ফিরে এলেন শত শত আহত সৈনিক। অন্ধকারে, কখনও ক্যাম্পে, কখনও বা আকাশতলে, একহাতে একটি জ্বলন্ত বাতি ও অন্য হাতে সেবা নিয়ে চলমান নাইটিঙ্গেল বিশ্বের কাছে পরিচিত হলেন, “Lady with the Lamp” নামে।


