বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই গ্রেফতার হলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু। প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুকে পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডি গ্রেফতার করার পর আদালতে হাজিরার সময় তাঁকে নিয়ে কলকাতা পুলিশের আচরণ নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। আইনজীবী সুদীপ্ত রায় দাবি করেছেন, লকআপ এলাকায় সুজিত বসুকে চেয়ারে বসিয়ে ফ্যান চালিয়ে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছিল।আইনজীবী সুদীপ্ত রায় বলেন, “যখন আমি লকআপের কাছে গিয়েছিলাম, তখন দেখলাম কলকাতা পুলিশের কয়েকজন সুজিত বসুকে ফ্যান চালিয়ে বসিয়ে রেখেছে।
আরও পড়ুনঃ অভিষেক পত্নী রুজিরার নথিতে রহস্যজনক দুই বাবা!
তিনি চেয়ারে বসে ছিলেন ফ্যানের নিচে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এভাবে কেন বসানো হয়েছে? উত্তর এল আপনি কে? তাঁকে একজন অভিযুক্তের যে ব্যবহার দেওয়া উচিত, সেই ব্যবহারই দেওয়া হোক।” এই ঘটনা সোমবার আদালতে হাজিরার সময় ঘটেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।সুজিত বসু পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী এবং বিধাননগরের বিধায়ক ছিলেন। সোমবার ১১ মে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর দক্ষিণ দমদম পৌরসভার নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডি তাঁকে গ্রেফতার করে।
ইডির অভিযোগ, তিনি পৌরসভায় অবৈধভাবে ১৫০ জনকে চাকরি দেওয়ার সুপারিশ করেছিলেন এবং তার বিনিময়ে টাকা ও সম্পত্তি নিয়েছিলেন। এটি নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর তৃণমূলের প্রথম বড় নেতার গ্রেফতার ।আইনজীবী সুদীপ্ত রায়ের অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে বলছেন, এটি পুরনো অভ্যাসেরই প্রতিফলন। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা টিএমসি নেতা-মন্ত্রীদের জন্য পুলিশ-প্রশাসন যে বিশেষ ব্যবহার করে অভ্যস্ত ছিল, সেই মানসিকতা এখনও পুরোপুরি বদলায়নি।
আরও পড়ুনঃ সাইবার মামলায় গ্রেফতার বাংলাপক্ষের গর্গ
সাধারণ অভিযুক্তদের যেখানে মেঝেতে বসতে হয় বা কড়া নিরাপত্তায় রাখা হয়, সেখানে একজন প্রভাবশালী নেতাকে চেয়ার ও ফ্যানের সুবিধা দেওয়া কেন এই প্রশ্ন উঠছে।নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও প্রশাসন বারবার বলেছে যে আইনের শাসন ফিরবে এবং কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তিকে বিশেষ ছাড় দেওয়া হবে না। এই ঘটনা সেই প্রতিশ্রুতির পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিজেপি নেতারা বলছেন, এটি পুরনো ব্যবস্থার অবশেষ।


