ফের নির্ভয়াকাণ্ডের ছায়া দিল্লিতে। সোমবার গভীর রাতে দিল্লির রানিবাগ এলাকায় চলন্ত স্লিপার বাসে গণধর্ষণ করা হয় এক তরুণীকে। জানা গিয়েছে, নির্যাতিতার বয়স ৩০ বছর। পুলিশ ঘটনায় ব্যবহৃত বাসটি বাজেয়াপ্ত করেছে এবং নির্যাতিতার জবানবন্দির ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তের সন্ধান জোরদার করা হয়েছে। নির্যাতিতা সেই তরুণী পিতমপুরার বস্তিতে থাকেন এবং মঙ্গলপুরীর একটি কারখানায় কাজ করেন। সোমবার রাতে কাজ শেষ করে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। সরস্বতী বিহারের বি-ব্লক বাসস্ট্যান্ডের কাছে পৌঁছালে সেখানে একটি স্লিপার বাস থামে। বাসের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা এক যুবক তাঁকে জোর করে বাসের ভিতরে নিয়ে যায়।
আরও পড়ুনঃ দুষ্কৃতীরা সাবধান! শনিবার থেকে গোটা রাজ্য কাঁপবে পুলিশের বুটের তলায়
নির্যাতিতার বয়ান অনুযায়ী, বাসের ভিতরে ঢুকতেই অভিযুক্তরা দরজা বন্ধ করে দেয় এবং চালককে বাস চালাতে বলে। চলন্ত বাসে দুই যুবক তাঁকে ধর্ষণ করে। নাংলোই মেট্রো স্টেশন পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার পথ ধরে এই ঘটনা চলে। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে যৌন নির্যাতনের পর রাত ২টোর দিকে অভিযুক্তরা নির্যাতিতাকে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়। এই ঘটনার পরে প্রাথমিকভাবে নাংলোই থানায় ফোন করে অভিযোগ জানানো হয়েছিল। তবে ঘটনাটি রানিবাগ থানা এলাকায় হওয়ায় মামলাটি সেখানে স্থানান্তরিত করা হয়। খবর পেয়েই রানিবাগ পুলিশ তৎপর হয়ে ওঠে। এক মহিলা সাব-ইন্সপেক্টর নির্যাতিতাকে বাবাসাহেব আম্বেদকর হাসপাতালে নিয়ে যান। যেখানে ডাক্তারি পরীক্ষায় ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
আরও পড়ুনঃ ‘চ্যানেল অফ থান্ডারস্টর্ম’, ভয়ংকর ও বিস্ময়কর সংকেত! কেরালম থেকে অরুণাচল প্রদেশ এক বিশাল মেঘের চাদর
হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানানান, নির্যাতিতার অবস্থা আশঙ্কাজনক। এই আবহে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু নির্যাতিতা হাসপাতালে থাকতে চাননি। নির্যাতিতা জানান, তাঁর স্বামী একজন যক্ষ্মা রোগী এবং তাঁর ৮, ৬ এবং ৪ বছর বয়সি তিনটি কন্যা রয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ স্ক্যান করে পুলিশের দল বিহারের রেজিস্ট্রেশন নম্বরের বাসটিকে চিহ্নিত করে এবং তা বাজেয়াপ্ত করেছে। চলছে তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের কাজ। এদিকে বাসের ভেতর থেকে প্রমাণ সংগ্রহের জন্য পুলিশের একটি ফরেনসিক টিম কাজে নেমে পড়ে। বাস মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে চালক ও মূল দুই অভিযুক্তকে শনাক্ত করা হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের সম্ভাব্য গোপন আস্তানায় অভিযান চালানো হচ্ছে এবং শিগগিরই তাদের গ্রেপ্তার করা হবে। সেই রাতে এই বাসের রুট ও অভিযুক্তদের গতিবিধি নিশ্চিত করতে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজও স্ক্যান করা হচ্ছে।


