পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বাড়ছে। সেই আবহে ফের দেশবাসীকে সাশ্রয়ের বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এবার শুধু ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ নয়, স্কুলগুলোকেও অনলাইন ক্লাস চালুর কথা ভাবতে বললেন তিনি। কোভিড পর্বে যে ভার্চুয়াল শিক্ষাব্যবস্থা গোটা দেশে চালু হয়েছিল, সেই মডেলের কথা তুলে ধরেন এদিন।
আরও পড়ুনঃ ক্ষমতায় এসেই সিন্ডিকেট উপড়ে ফেলার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর
সোমবার গুজরাতের ভাদোদরায় সর্দারধাম হস্টেলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পশ্চিম এশিয়ায় যা চলছে তা আগে কেউ কখনও দেখেনি। তবে কোভিড অতিমারির সময় দেশ যেমন একসঙ্গে মোকাবিলা করেছিল, তেমনই এই পরিস্থিতিও কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।’ তাই দেশের সম্পদের উপর চাপ কমাতে নাগরিকদের এগিয়ে আসার আবেদন জানান।
কিছু স্কুলকে প্রাথমিকভাবে অনলাইন ক্লাস শুরুর ব্যবস্থা করার কথা ভাবতে বলেন। কারণ তিনি মনে করেন, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ালে জ্বালানির ব্যবহার অনেকটাই কমানো সম্ভব। আর শুধু স্কুল বা অফিস নয়, সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রেও ভার্চুয়াল বৈঠক এবং দূর থেকে কাজ করার সংস্কৃতি আরও বাড়ানোর পরামর্শ দেন।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ছে। তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রা ভাণ্ডারের উপর। কারণ, বিপুল পরিমাণ জ্বালানি আমদানি করতে হয় দেশকে।
আরও পড়ুনঃ ‘আর রাস্তায় নামাজ নয়, যেতে হবে মসজিদেই, জানালেন অর্জুন
ভাদোদরার সভা থেকে মোদী বলেন, “দেশের সম্পদের উপর চাপ কমাতে আমাদের সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে। বিদেশ থেকে বহু পণ্য আমদানি করতে ভারতকে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা খরচ করতে হয়। একই সঙ্গে আমদানিকৃত পণ্যের দামও বাড়ছে, বিশ্বজুড়ে ধাক্কা খেয়েছে সরবরাহ ব্যবস্থাও।”
যেকোনও ক্ষেত্রেই ছোট ছোট উদ্যোগও বড় পরিবর্তন আনতে পারে, তারই উদাহরণ ভাদোদরার সভায় দেন প্রধানমন্ত্রী। এই অনলাইন ক্লাস শুরুর কথা উঠতেই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। কোভিডের সময় দীর্ঘদিন অনলাইন ক্লাস চলায় পড়ুয়াদের মানসিক স্বাস্থ্য ও পড়াশোনার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। ফলে নতুন করে সেই ব্যবস্থার ইঙ্গিত কতটা বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়েও শুরু হয়েছে জল্পনা।


