Thursday, 14 May, 2026
14 May
HomeদেশPharmacy Shop: প্রচলিত বাজার ব্যবস্থা এবং আধুনিক ডিজিটাল বাজারের মধ্যকার এক তীব্র...

Pharmacy Shop: প্রচলিত বাজার ব্যবস্থা এবং আধুনিক ডিজিটাল বাজারের মধ্যকার এক তীব্র লড়াই! AIOCD-র দেশব্যাপী বনধের ডাক

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডিজিটাল বিপ্লবের ফলে ওষুধ কেনা সহজ হলেও, খুচরো বিক্রেতারা দাবি করছেন যে এই অনলাইন পোর্টালগুলো অনিয়ন্ত্রিতভাবে ব্যবসা চালাচ্ছে।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

আসন্ন ২০ মে দেশজুড়ে ওষুধ ধর্মঘটের যে ডাক দেওয়া হয়েছে, তা সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে চলেছে। অল ইন্ডিয়া অর্গানাইজেশন অফ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্টস (AIOCD) এই দেশব্যাপী বনধের ডাক দিয়েছে। ১২.৪ লক্ষেরও বেশি ওষুধ বিক্রেতা এই আন্দোলনে শামিল হতে চলেছেন। ভারতের মতো জনবহুল দেশে যেখানে কোটি কোটি মানুষ প্রতিদিন জীবনদায়ী ওষুধের ওপর নির্ভরশীল, সেখানে এই ধরনের একটি সিদ্ধান্ত জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। আপনি যদি নিয়মিত ওষুধের ওপর নির্ভরশীল হন, তবে এই দিনটির পরিস্থিতি সম্পর্কে আগাম সচেতন হওয়া জরুরি।

আরও পড়ুনঃ অফিসে এসে আড্ডা দেওয়া শেষ! সরাসরি নজরদারিতে মন্ত্রী

ওষুধ বিক্রেতাদের মূল অভিযোগ মূলত অনলাইন ফার্মেসি বা ই-ফার্মেসি প্ল্যাটফর্মগুলোর বিরুদ্ধে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডিজিটাল বিপ্লবের ফলে ওষুধ কেনা সহজ হলেও, খুচরো বিক্রেতারা দাবি করছেন যে এই অনলাইন পোর্টালগুলো অনিয়ন্ত্রিতভাবে ব্যবসা চালাচ্ছে। বড় বড় কোম্পানিগুলো যে পরিমাণ ছাড় দিচ্ছে, তার সঙ্গে পাল্লা দেওয়া সাধারণ পাড়ার ওষুধের দোকানগুলোর পক্ষে কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ছে। কিন্তু আন্দোলনের কারণ শুধু বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। রসায়নবিদদের সংগঠনটি দাবি করেছে, অনলাইন মাধ্যমে ওষুধ বিক্রির ক্ষেত্রে প্রেসক্রিপশন যাচাইয়ের কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেই। এর ফলে অ্যান্টিবায়োটিক এবং অভ্যাস গঠনকারী ওষুধের (habit-forming drugs) অপব্যবহার বাড়ছে। তাদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে তৈরি জাল প্রেসক্রিপশন দিয়ে ওষুধ কেনা এখন অনেক সহজ হয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে।

এই আন্দোলনের ব্যাপকতা বোঝা যায় যখন আমরা পরিসংখ্যানের দিকে তাকাই। সারা ভারতে প্রায় ১২.৪ লক্ষ কেমিস্ট এই ধর্মঘটে যোগ দিচ্ছেন। সংগঠনের দাবি অনুযায়ী, প্রায় ৫ কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই পেশার সঙ্গে যুক্ত, যাদের জীবন ও জীবিকা আজ সঙ্কটের মুখে। খুচরো বিক্রেতাদের আরও একটি বড় আপত্তি হলো কোভিডকালীন সময়ে সরকার প্রদত্ত কিছু ছাড় বা ‘রিলাক্সেশন’ নিয়ে। বিশেষ করে G.S.R. 220(E) এবং G.S.R. 817(E)-এর মতো নিয়মগুলো প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের মতে, এই নিয়মগুলোর অপব্যবহার করে অনলাইন সংস্থাগুলো ড্রাগ রেগুলেশন বা ওষুধের আইনি রক্ষাকবচ এড়িয়ে যাচ্ছে।

আপনি হয়তো ভাবছেন যে ২০ মে আপনার বা আপনার পরিবারের প্রয়োজনে ওষুধ পাওয়া যাবে কি না। এই ধর্মঘটের দিন অধিকাংশ সাধারণ ওষুধের দোকান সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ এবং কলকাতার মতো শহরগুলোতে বেঙ্গল কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (BCDA) এই আন্দোলনে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। তবে একটি বিষয় আশ্বস্ত হওয়ার মতো—অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে যে সাধারণ মানুষের প্রাণের ঝুঁকি এড়াতে জরুরি পরিষেবা সচল রাখা হবে। বড় হাসপাতালগুলোর ভেতরে থাকা ওষুধের দোকান বা ‘ফার্মাসি স্টোর’গুলো খোলা রাখার চেষ্টা করা হবে যাতে ইন-পেশেন্ট বা জরুরি ভিত্তিতে আসা রোগীদের সমস্যা না হয়। জীবনদায়ী ওষুধ এবং আপদকালীন ইনজেকশন বা স্যালাইনের মতো উপকরণের ক্ষেত্রে স্থানীয় স্তরে বিশেষ ব্যবস্থা রাখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ দুষ্কৃতীরা সাবধান! শনিবার থেকে গোটা রাজ্য কাঁপবে পুলিশের বুটের তলায়

এই ধর্মঘট মূলত একটি সাংবাদিকসুলভ বা প্রামাণ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এটি প্রচলিত বাজার ব্যবস্থা এবং আধুনিক ডিজিটাল বাজারের মধ্যকার এক তীব্র লড়াই। একদিকে রয়েছে সাধারণের ঘরে ঘরে সস্তায় ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার দাবি, অন্যদিকে রয়েছে পাড়ার ওষুধের দোকানের পরিচিত পরিষেবা এবং নিরাপত্তার প্রশ্ন। ওষুধ বিক্রেতারা মনে করেন, গ্রামীণ ভারতে বা আধাশহরে যেখানে ডিজিটাল প্রযুক্তি পৌঁছায়নি, সেখানে স্থানীয় দোকানগুলোই মানুষের প্রথম স্বাস্থ্য-ভরসা। অনলাইন কোম্পানিগুলোর দাপটে যদি এই দোকানগুলো বন্ধ হয়ে যায়, তবে সাধারণ মানুষ চরম বিপাকে পড়বেন।

২০ মে তারিখের জন্য আপনাকে প্রস্তুত থাকতে হবে। দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধগুলো অন্তত দুই থেকে তিন দিন আগে সংগ্রহ করে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। ধর্মঘট সফল হলে সরবরাহ ব্যবস্থায় সাময়িকভাবে টান পড়তে পারে, তাই শেষ মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা না করাই ভালো। এই আন্দোলন আগামী দিনে ভারতের ওষুধ নীতি এবং অনলাইন বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার। সরকারের সঙ্গে এই সংগঠনের আলোচনা যদি ফলপ্রসূ না হয়, তবে এই প্রতিবাদ আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। তাই আগাম সতর্কতা এবং সচেতনতা তোমার নিজের ও পরিবারের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন