রবিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে আইএসএলের মহাডার্বি। মুখোমুখি হতে চলেছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান। শুধু তিন পয়েন্ট নয়, এই ম্যাচ ঘিরে রয়েছে সমর্থকদের আবেগ, মর্যাদা এবং শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই। শহরের অলিগলি থেকে রাজ্যের নানা প্রান্ত, সর্বত্র এখন একটাই আলোচনা, ডার্বি। বড় ম্যাচের টিকিট আগেই শেষ হয়ে গিয়েছে। ফলে গ্যালারিভর্তি দর্শকের সামনে মরশুমের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে।
আরও পড়ুনঃ হরগোবিন্দ-চন্দনদের ভুলে তপসিয়ার পাশে সিপিএম
ডার্বির আগে শেষ মুহূর্তের সাজে সেজে উঠছে যুবভারতী। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। স্টেডিয়ামের বিভিন্ন অংশে চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ, গ্যালারি পরীক্ষা, আলোর ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা এবং দর্শক প্রবেশের বিশেষ পরিকল্পনা। তবে এই প্রস্তুতির মাঝেই সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে স্টেডিয়ামের বদলে যাওয়া মুখ। বহুদিন ধরে যুবভারতীর নানা প্রান্তে দেখা যেত ‘বিশ্ববাংলা’ লোগো। বিশেষ করে স্টেডিয়ামের বাইরে ও ভিতরে থাকা বিশাল প্রতীক অনেকের কাছেই পরিচিত ছিল।
কিন্তু ডার্বির আগে সেই লোগো সরিয়ে তার জায়গায় বসানো হয়েছে জাতীয় প্রতীক অশোকস্তম্ভ। স্টেডিয়ামের সৌন্দর্যায়নের কাজ চলাকালীন এই পরিবর্তন স্পষ্টভাবে চোখে পড়েছে সমর্থকদের। শুধু লোগো বদলেই থেমে নেই পরিবর্তন। সূত্রের খবর, স্টেডিয়ামের সামনে থাকা বড় স্ট্যাচুটিও বদলে ফেলার পরিকল্পনা রয়েছে। অনূর্ধ্ব ১৭ ফুটবল বিশ্বকাপের সময় তৈরি হওয়া সেই ভাস্কর্য দীর্ঘদিন ধরে যুবভারতীর অন্যতম আকর্ষণ ছিল। যদিও এ বিষয়ে এখনও সরকারি ভাবে কিছু জানানো হয়নি, তবু পরিবর্তনের জল্পনা ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে ফুটবলমহলে।
আরও পড়ুনঃ ‘ওয়ান ফিগার’ জুয়া চালিয়ে কোটিপতি, তৃণমূলের বাবুলাল শেখদের মদত দিত কে?
গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল হয়েছে। নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, প্রতিষ্ঠান এবং প্রকল্পে ধীরে ধীরে বদল আনা শুরু হয়েছে। একসময় রাজ্যের শাসক দলের পরিচিত প্রতীক হিসেবে পরিচিত ছিল ‘বিশ্ববাংলা’ ব্র্যান্ড। সরকারি অনুষ্ঠান, প্রচার, স্কুলের পোশাক থেকে শুরু করে বিভিন্ন পরিকাঠামো, সর্বত্রই দেখা যেত সেই বিশেষ লোগো। তার উপরে ছোট করে থাকত জাতীয় প্রতীকও। কিন্তু বর্তমানে সেই জায়গা নিচ্ছে শুধুমাত্র অশোকস্তম্ভ।
সরকারি ওয়েবসাইট, প্রশাসনিক নথি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ইতিমধ্যেই এই পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনও। আর এই পরিবর্তন ঘটল এমন এক সময়, যখন গোটা বাংলা ডার্বির উন্মাদনায় মেতে উঠেছে। ফলে রবিবারের ম্যাচ শুধু ফুটবলের লড়াই নয়, যুবভারতীর নতুন রূপও থাকবে সমর্থকদের নজরে। মাঠের ভিতরে যেমন দুই প্রধানের যুদ্ধ চলবে, তেমনই মাঠের বাইরেও চোখে পড়বে এক নতুন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের ছাপ।


