শুভজিৎ মিত্র, কলকাতা
পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক সরকার পরিবর্তনের পর থেকে রাজ্যের প্রশাসনিক নীতিতে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।যার মধ্যে অন্যতম হলো, মহানগরের রাস্তায় নামাজ পড়ার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ। প্রশাসনের দাবি, এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হলো শহরের ক্রমবর্ধমান যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করা। সরকারের এই প্রশাসনিক তৎপরতাকে, অনেকেই জনস্বার্থে নেওয়া এক সদর্থক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। যার মাধ্যমে, শহরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সচল রাখার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ বাংলার লজ্জা, নামতে নামতে ফলতায় ৪ নম্বরে তৃণমূল
ধর্মীয় ক্ষেত্রে বিভেদের আশঙ্কা!
এই সিদ্ধান্তের পরপরই, কলকাতার দুর্গাপুজোর মতো বড় উৎসবগুলো নিয়ে জনমনে এক নতুন সমীকরণ ও আশঙ্কার জন্ম হয়েছে। দীর্ঘকাল ধরে কলকাতায় পুজোর সময় প্যান্ডেল তৈরি ও দর্শনার্থীদের ভিড়ের কারণে জনবহুল রাস্তা অবরুদ্ধ থাকে। যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—”এবার কি দুর্গাপুজোর ক্ষেত্রেও একই কঠোর আইন প্রয়োগ করা হবে?” সমালোচকরা মনে করছেন, ‘যদি রাস্তার অধিকারের ক্ষেত্রে ধর্মীয়ভেদে ভিন্ন ভিন্ন মাপকাঠি বজায় থাকে। তবে তা কেবল এক ধরনের রাজনৈতিক তোষণের পরিবর্তে অন্য ধরনের রাজনীতির চর্চা হিসেবেই গণ্য হবে।‘ যেটা রাজ্যের ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামোর জন্য মোটেই ভালো নয়।

ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা!
প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবশ্য জানানো হয়েছে যে, ধর্মীয় জমায়েত এবং দীর্ঘস্থায়ী উৎসবের মধ্যে প্রশাসনিক পার্থক্য রয়েছে। পুজোর মতো উৎসবগুলো কেবল ধর্মীয় নয়, বরং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের অংশ। যার জন্য প্রতি বছরই বিশেষ অনুমতি ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন হয়। তবুও, সাধারণ নাগরিক ও সুশীল সমাজের একাংশ মনে করছেন, “আইনের শাসন তখনই পূর্ণতা পায় যখন তা নিরপেক্ষ হয়।” ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক যে কোনো ক্ষেত্রেই রাস্তা ব্যবহারের নিয়ম যেন অভিন্ন হয়, তা নিশ্চিত করা এখন প্রশাসনের কাছে এক বড় চ্যালেঞ্জ।
আরও পড়ুনঃ খুশি তিলত্তমা, এবার রেড রোডে বন্ধ নামাজ!
পশ্চিমবঙ্গের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় সহনশীলতার যে ঐতিহ্য, তা কি বর্তমানের এই নতুন প্রশাসনিক কৌশলের মাঝে টিকে থাকবে? এটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। সুস্থ ও শান্তিময় সমাজ গড়ার জন্য প্রয়োজন আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ এবং সকল ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা। আশা করা যায়, রাজ্য প্রশাসন ভবিষ্যতে এমন একটি স্বচ্ছ নীতিমালা গ্রহণ করবে। একদিকে, শহরের যানজটমুক্ত চলাচল নিশ্চিত করবে এবং অন্যদিকে, রাজ্যের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও ধর্মীয় ভাবাবেগকেও অক্ষুণ্ণ রাখবে।



