বারুইপুরের ১২ বছরের নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুনের তদন্তে মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটে গেল এক চরম নাটকীয় ঘটনা। পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হলো মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের। তদন্তকারীদের দাবি, ঘটনার পুনর্নির্মাণের (ক্রাইম সিন রিকনস্ট্রাকশন) জন্য মাঝরাতে প্রভাসকে বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেখানে গিয়ে সে আচমকাই পুলিশি হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টা করে। পুলিশ প্রথমে তাকে সতর্ক করলেও সে কথা শোনেনি, ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বাধ্য হয়েই গুলি চালাতে হয় পুলিশকে। গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুনঃ শুভেন্দুর সেই হুঙ্কারই সত্যি হল! বারুইপুরে এনকাউন্টারে মৃত অভিযুক্ত; Justice পেয়ে গেল বারুইপুর
গত রবিবার সকালে সূর্যপুরের একটি পুকুর থেকে ওই কিশোরীর দেহ উদ্ধারের পর থেকেই ক্ষোভে ফুঁসছিল গোটা রাজ্য। সিসিটিভি ফুটেজ ও স্থানীয়দের বয়ানের ওপর ভিত্তি করে পুলিশ প্রথমেই এই প্রভাস মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করেছিল। তবে পুলিশের দাবি, লক-আপে জেরার সময় সে ক্রমাগত বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছিল এবং কোনও সহযোগিতা করছিল না। সেই জট খুলতেই মঙ্গলবার মধ্যরাতে তাকে নিয়ে অকুস্থলে গিয়েছিলেন তদন্তকারীরা। যদিও পুলিশের এই ‘এনকাউন্টার’-এর তত্ত্ব নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পুরো বিষয়টির একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করা হচ্ছে এবং এটি নিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। এদিকে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ানো রুখতে গোটা বারুইপুর জুড়ে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ‘ঠিক হয়েছে, ভালো হয়েছে’, এনকাউন্টার নিয়ে বললেন মৃত প্রভাসের মা
অভিযুক্তের এই রহস্যময় মৃত্যুর পর রাজ্যের রাজনৈতিক মহল এখন তোলপাড়। এই এনকাউন্টার নিয়ে রাজ্য পুলিশকে সরাসরি কাঠগড়ায় তুলে সমাজমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তিনি ক্ষুব্ধভাবে লেখেন— “বারুইপুর ধর্ষণ ও খুনের মামলার অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল এনকাউন্টারে নিহত! পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ, রাজ্যে কী চলছে? বাঙালিরা দয়া করে নতুন বাংলাকে স্বাগত জানান— উত্তরপ্রদেশ ২.০। বিজেপি সরকারে নেই, কিন্তু এটা জঙ্গলরাজ।” বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলার দিকে কড়া নজর রাখা হলেও, পুলিশের এই দাবির পেছনে আসল সত্য কী, তা সরকারি তদন্ত রিপোর্টের পরেই স্পষ্ট হবে।


