কলকাতার ফুটবলপ্রেমীদের আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা লেকটাউনের লিওনেল মেসির বিশাল ৭০ ফুট উঁচু মূর্তি এখন নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে। একদিকে যেমন এই মূর্তি শহরের ক্রীড়াপ্রেমীদের কাছে গর্বের প্রতীক হয়ে উঠেছিল, অন্যদিকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভিযোগ সামনে আসতেই শুরু হয়েছে ভাঙার প্রস্তুতি এমনই খবর ঘিরে তোলপাড় শহরে।
আরও পড়ুনঃ ‘শান্তিনিকেতন’-এ কলকাতা পুলিশ! কারণ নিয়ে চরম ধোঁয়াশা
সূত্রের খবর অনুযায়ী, লেকটাউন থানার কাছ থেকে ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় নির্দেশ পৌঁছে গিয়েছে এবং প্রশাসনিক পর্যায়ে মূর্তি সরানোর বিষয়ে প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে সোমবার রাতের মধ্যেই কাজ শুরু হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত সরকারি তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি।
প্রসঙ্গত, গত বছর ১৩ ডিসেম্বর কলকাতায় এসে আর্জেন্তিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক লিও মেসি ভার্চুয়ালি এই মূর্তির উদ্বোধন করেছিলেন। সেই সময় গোটা শহরজুড়ে ফুটবল উন্মাদনা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে বিশ্বকাপ জয়ের পর মেসির নামে এত বড় আকারের স্মারক তৈরি হওয়ায় ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা গিয়েছিল। ভিআইপি রোডের পাশে লেকটাউনের এই কাঠামো দ্রুতই একটি দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়।
এই বিশাল মূর্তির দায়িত্বে ছিল শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব যাদের উদ্যোগে শহরে একাধিক বড় সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া আয়োজন হয়ে থাকে। তবে মূর্তি নির্মাণের পর থেকেই এর নকশা, স্থায়িত্ব এবং বাস্তবসম্মত চেহারা নিয়ে নানা বিতর্ক শুরু হয়। অনেকেই দাবি করেন, মূর্তির মুখাবয়ব আসল মেসির সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। সামাজিক মাধ্যমে কেউ কেউ মজার ছলে এটিকে বলিউড অভিনেতা হৃত্ত্বিক রোশনের সঙ্গে তুলনাও করেন, যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
তবে এই বিতর্ককে ছাপিয়ে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে নিরাপত্তা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রবল হাওয়া চললে মূর্তিটি দুলতে শুরু করে। তাদের দাবি, ভিত্তি বা কাঠামোর নিচের মাটি পর্যাপ্তভাবে শক্ত নয়, ফলে যেকোনও মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে ভিআইপি রোডে যানবাহনের চাপ এবং আশেপাশে জনসমাগম বেশি থাকায় এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায় বলে মত অনেকের।
আরও পড়ুনঃ কলকাতায় ১৯৯৬ সালের ‘অপারেশন সানশাইনের’ স্মৃতি, উচ্ছেদ হয়েছিল আটানব্বইয়েও; হচ্ছে আজও
একজন স্থানীয় বাসিন্দার কথায়, “এটা শুধু একটা মূর্তি নয়, এটা এখন আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদি সত্যিই ভিত্তি দুর্বল হয়, তাহলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।” অন্যদিকে ফুটবলপ্রেমীদের একাংশ এখনও এই সিদ্ধান্তে হতাশ। তাদের মতে, মেসির মতো বিশ্বখ্যাত খেলোয়াড়ের স্মারক কলকাতায় থাকা শহরের জন্য গর্বের বিষয় ছিল।
রাজনৈতিক মহলেও বিষয়টি নিয়ে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছে, এত বড় কাঠামো তৈরি করার আগে যথাযথ নিরাপত্তা যাচাই করা হয়েছিল কি না। অন্যদিকে শাসক শিবিরের একাংশ বলছে, জন নিরাপত্তা যেখানে প্রশ্নের মুখে, সেখানে কোনও ঝুঁকি নেওয়া যায় না।
বর্তমানে প্রশাসনের নজর রয়েছে পুরো পরিস্থিতির ওপর। মূর্তি সত্যিই ভাঙা হবে কি না, নাকি সংস্কার করে পুনরায় নিরাপদ করা হবে তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। তবে কলকাতার ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।



