বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর এবার আইনি লড়াইয়ের নামে নতুন এক রাজনৈতিক তামাশা শুরু করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করছেন, নির্বাচনে ‘লুট’ হয়েছে। কিন্তু ওয়াকিবহাল মহলের মতে, দীর্ঘদিনের দাপুটে শাসনের অবসান ঘটার পর নিজেদের গদি বাঁচানোর শেষ চেষ্টা হিসেবেই এই পিটিশন দাখিলের নাটক করছেন তিনি। যারা দিনের পর দিন ক্ষমতায় থেকে দুর্নীতির পাহাড় গড়েছেন, আজ তাদের মুখে ‘বিচার’ চাওয়ার কথা এক চরম প্রহসন ছাড়া আর কিছুই নয়।
আরও পড়ুনঃ হিন্দু ধর্মকে ‘গন্দা ধৰ্ম’ বলা মমতার নামে মামলা দায়ের শিলিগুড়ির আইনজীবীর
তৃণমূলের অন্দরেই এখন ভাঙন স্পষ্ট। দলের অনেক পরাজিত প্রার্থীই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অযৌক্তিক মামলার পথে হাঁটতে চাইছেন না। কারণ, তাঁরা জানেন, হারটা ছিল প্রত্যাশিত। বছরের পর বছর সাধারণ মানুষের ওপর যে অত্যাচার ও দুর্নীতি চালিয়েছে এই দল, তার জবাব তো ব্যালট বক্সে দিতেই হতো। এখন যখন নিজেরা হেরেছেন, তখন ইভিএম-এর দোষ দিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করছে ‘চোরের দল’।
সবচেয়ে হাস্যকর বিষয় হলো, তৃণমূল নেতৃত্ব দলের প্রার্থীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য। যারা দীর্ঘদিন ক্ষমতার সুফল ভোগ করেছেন, এখন সেই চুরির দায় থেকে বাঁচতে বা ক্ষমতার গদি পুনরুদ্ধারের আশায় তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে আইনকে ব্যবহার করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। কল্যাণের মতো নেতারা যখন দলের পরাজিত প্রার্থীদের কাঠগড়ায় দাঁড় করান বা তাদের ‘পালিয়ে যাওয়া’র অপবাদ দেন, তখন স্পষ্ট বোঝা যায়, তৃণমূলের অন্দরে এখন বিশ্বাসের সংকট চরমে।
আরও পড়ুনঃ অনুমতি ছাড়াই চারতলা ‘নোলক’!! কাঠগড়ায় দক্ষিণ দমদম পৌরসভার প্রভাবশালী তৃণমূল কাউন্সিলর!
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আচরণ আসলে হারের গ্লানি সহ্য করতে না পারার মানসিক অস্থিরতা। জনতা যখন বিপুল ভোটে এই দলকে প্রত্যাখ্যান করেছে, তখন সেই রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা না জানিয়ে উল্টো আদালতে দৌড়ে গণতন্ত্রের প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে। রাজ্যবাসী দেখছে, একসময়ের দাপুটে নেতারা আজ আইনি লড়াইয়ের নাম করে নিজেদের অপকর্ম ঢাকার চেষ্টা করছে। কিন্তু বাংলার মানুষ আর এসব নাটকে ভুলবে না। চুরির বিচার তো ব্যালট বক্সেই হয়েছে, এখন আইনি চাদরে ঢাকা দিয়ে কি আর নিজের মুখ রক্ষা করা যাবে?



