কলকাতা ও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে গত ৪৮ ঘণ্টায় একের পর এক বুলডোজার চলেছে। অভিযোগ অনুসারে, অবৈধ দখল ও নির্মাণের অজুহাতে তৃণমূল কংগ্রেসের ২০টিরও বেশি পার্টি অফিস ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। নতুন প্রশাসনের এই কঠোর অভিযান দেখে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। অনেকে একে বলছেন ‘বুলডোজার রাজ’, আবার অনেকে দেখছেন দীর্ঘদিনের অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের পদক্ষেপ।
আরও পড়ুনঃ সরকারি ত্রাণ চুরি-উদ্ধার ৮0 লক্ষ টাকা, গ্রেফতার পুরসভার চেয়ারম্যান
সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা নিউ টাউনের ওয়ার্ড নম্বর ৭৫-এ। ভিডিওতে দেখা গেছে, বুলডোজার গর্জন করে তৃণমূলের স্থানীয় অফিসটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিচ্ছে। চারপাশে ধুলোয় ঢেকে যাচ্ছে রাস্তা, ভেঙে পড়ছে ছাদ ও দেওয়াল। স্থানীয় তৃণমূল কর্মীরা চিৎকার করে প্রতিবাদ জানালেও পুলিশি নিরাপত্তায় অভিযান চলতে থাকে। শুভেন্দু অধিকারী যখন বিরোধী দলনেতা ছিলেন, তখন থেকেই ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশের’ সঙ্গে ‘সবকা হিসাব’ করার কথা বলে আসছিলেন।
নতুন মুখ্যমন্ত্রী হয়ে সেই প্রতিশ্রুতি এখন বাস্তবে রূপ দিচ্ছেন বলে বিজেপি নেতারা দাবি করছেন। প্রশাসনের বক্তব্য, এগুলো কোনও রাজনৈতিক অভিযান নয়, শুধুই অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে অভিযান। কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনসহ বিভিন্ন পুরসভা নোটিশ দিয়ে সময় দিয়েও যেসব জায়গায় সাড়া মেলেনি, সেখানেই বুলডোজার নামানো হয়েছে। তিলজলা, কসবা, বেলেঘাটা, তপসিয়া , আসানসোল, বার্নপুরসহ একাধিক এলাকায় এই অভিযান চলছে।
আরও পড়ুনঃ গণতন্ত্রের দোহাই দিয়ে ‘চোরের দল’-এর আইনি নাটক!
তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য এই অভিযানকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে আখ্যায়িত করেছে। দলের নেতারা বলছেন, নির্বাচনের ফল বেরোনোর পর থেকেই বিজেপি কর্মীরা উল্লাস করে তাদের অফিস ভাঙছে। কয়েকটি জায়গায় পুলিশ উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও অভিযান চলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তৃণমূল নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েনসহ অনেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও শেয়ার করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।



