Friday, 29 May, 2026
29 May
HomeকলকাতাTMC: ফেল পরীক্ষায়; রাজনৈতিক সন্ন্যাস নিতে চলেছেন অভিষেক?

TMC: ফেল পরীক্ষায়; রাজনৈতিক সন্ন্যাস নিতে চলেছেন অভিষেক?

সমাজ মাধ্যমে জোর চর্চা চলছে, তৃণমূলের ভবিষ্যৎ কী?

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

পরীক্ষায় ফেল হলে বা কম নম্বর পেলে খাতা রিভিউর সুযোগ পাওয়া যায়। তাতে নম্বর বাড়তে বা কমতে পারে, আবার একই থেকে যাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। ভোট পরীক্ষায় ফেল হলে কী হয়? রিভিউ বলে কিছু তো নেই সেই গণতন্ত্রের অগ্নিপরীক্ষায়। জনগণেশের রায় মাথা পেতে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। বড়জোর ভোট চুরি বা দুর্নীতির অভিযোগ আনা যেতে পারে। তাতে দুএকটা পুনর্নির্বাচন বা পুনর্গণনা ছাড়া আর কিছু মেলার আশা থাকে না। ভোটের ফল উল্টে যাওয়া অলীক কল্পনা। আর বিরল ক্ষেত্রে বিগত সরকারের সর্বোচ্চ পদাধিকারী ‘আমি হারিনি‘ বলে জেদ ধরে পদত্যাগে রাজি না হলে শেষমেষ রাজ্যপাল তাঁকে বরখাস্ত করতে বাধ্য হন। যেমন দৃষ্টান্ত সম্প্রতি স্থাপন করে ইতিহাসে নাম তুলেছেন মমতা ব্যানার্জি।

আরও পড়ুনঃ তৃণমূল নেতাকে জুতোপেটা; দুরাজপুরে ক্ষোভের মুখে তৃণমূল কাউন্সিলারের ঘনিষ্ঠ ধনঞ্জয় গড়াই

ভোটের ফল পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ নেই ঠিক, কিন্তু পর্যালোচনার সুযোগ আছে। পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর টালমাটাল তৃণমূল সেই কাজটাই করছে। যখন একের পর এক সাংসদ, বিধায়ক, পুর প্রতিনিধি থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা পর্যন্ত বিদ্রোহী হয়ে উঠছেন, দলবদলের জন্য‌ নানা ইঙ্গিত পাঠাচ্ছেন শাসক শিবিরে, তখন পাশে থেকে যাওয়া কয়েকজন নেতা নেত্রী ও পরামর্শদাতাকে দায়িত্ব দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো, হারের কারণ পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে খতিয়ে দেখার।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, যেহেতু দলের ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত বেশির ভাগ অভিযোগের আঙুল তুলছেন সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জির দিকে, তাই আগামী কয়েক মাসের মধ্যে তিনি নিজেই সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে যেতে পারেন। ২০২৯ সালে পরবর্তী লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত তিনি ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ থাকলেও এলাকায় তাঁকে আর বিশেষ দেখা যাবে বলে মনে হয় না। যেমন দেখা যায়নি ফলতা পুনর্নির্বাচনের আগে প্রচারে। এমনকী তাঁর একদা ছায়াসঙ্গী জাহাঙ্গীর ভোটের ময়দান ছেড়ে পালানোর ফলে দলের ভাবমূর্তি ভেঙে চুরচুর হয়ে গেলেও নয়। ৪ মে ফল প্রকাশের পর থেকে অভিষেক নিজেকে কার্যত গৃহবন্দী করে রেখেছেন। আপাতত কলকাতা পুরসভা তাঁকে ব্যতিব্যস্ত রেখেছে বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত অভিযোগে। তবে যে হারে তৃণমূলের নেতা- কর্মীদের বাড়ি, এমনকী ক্ষেতের জমি থেকেও উদ্ধার হচ্ছে কোটি কোটি টাকা, গয়না, হদিশ পাওয়া যাচ্ছে আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন সম্পত্তির, তাতে ‘কান টানলে মাথা আসে‘ প্রবাদ কবে সত্যি হয়ে যায়, সেই দুশ্চিন্তা গ্রাস করেছে নেতৃত্বকে। কিন্তু এই মুহূর্তে তৃণমূল বিরোধিতা করলেই যে বিজেপি কোলে টেনে নেবে, সেই ‘ওয়াশিং মেশিনের‘ (ইডি, সিবিআই থেকে বাঁচতে  বিজেপির দুয়ারে ধর্না দিয়ে বাঁচতে চাইলে তৃণমূল এটাই বলত)দরজা আপাতত বন্ধ। মমতা নিজেও নাকি ঘনিষ্ঠ মহলে বলেছেন, যারা এই দুঃসময়ে দলের পাশ থেকে সরে যাচ্ছে, তাদের চলে যাওয়াই ভাল। দল সাফাই হওয়া দরকার।

আরও পড়ুনঃ পোল্যান্ডের নাগরিকের মুখে শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা, সীমান্ত সুরক্ষায় তৎপরতাকে কুর্নিশ!

অন্যদিকে সমাজ মাধ্যমে জোর চর্চা চলছে, তৃণমূলের ভবিষ্যৎ কী? মমতা ব্যানার্জি যে এ মুহূর্তে দলের রাশ ছাড়ছেন না বা সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ভাবছেন না, তা বলাই যায়। শুক্রবার থেকে পথে নেমে আন্দোলনের ঘোষণাও তিনি করেছেন। পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদ জানাবে তাঁর দল। এছাড়া সাম্প্রতিক নির্বাচনে নানা দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে শীঘ্রই আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছে তৃণমূল।

ভুলে গেলে চলবে না, অপ্রত্যাশিত পরাজয় হয়েছে বটে, কিন্তু বিধানসভায় তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়ক আছেন। সংখ্যাটা কম নয়। সংসদীয় গণতন্ত্রে অন্যতম শক্তি বিরোধী পক্ষ, যার কাজ সরকারকে বন্দুকের মুখে রাখা, আবার জনস্বার্থে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া। পশ্চিমবঙ্গের জনগণের আফশোস, বিরোধী নেত্রীর ভূমিকায় অগ্নিকন্যাকে না পাওয়া। তবে আশা করা যায়, রাজনৈতিক সন্ন্যাস যখন নেননি, তখন রণকৌশল ঠিক করার পুরো দায়িত্ব থাকবে সেনাপতি মমতার হাতেই।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন