সোনা পাপ্পু-কাণ্ডের তদন্তে নতুন মোড়। কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্সে অবস্থিত ইডির দফতরে সোমবার উপস্থিত হলেন প্রাক্তন মন্ত্রী সাধন পাণ্ডের কন্যা শ্রেয়া পাণ্ডে। তাঁকে মঙ্গলবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছিল বলে ইডি সূত্রের দাবি। তবে নির্ধারিত দিনের এক দিন আগেই তিনি তদন্তকারী সংস্থার দফতরে পৌঁছে যান। ইডি সূত্রে খবর, সোনা পাপ্পু ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দারের মামলায় উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস পরীক্ষা করতে গিয়ে বিভিন্ন চ্যাটে শ্রেয়া পাণ্ডের নাম উঠে এসেছে। সেই সূত্র ধরেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি। তবে এই বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন শ্রেয়া পাণ্ডে।
আরও পড়ুনঃ ইডির ডাকে হাজির শ্রেয়া পাণ্ডে, শুরু জিজ্ঞাসাবাদ
সমাজমাধ্যমে শ্রেয়া দাবি করেন, সোমবারের জন্য তাঁর কাছে কোনও সমন ছিল না এবং তিনি স্বেচ্ছায় ইডি দফতরে গিয়েছেন। পাশাপাশি তাঁর দাবি, অতীতে জারি হওয়া কোনও সমনও তিনি অমান্য করেননি। সোনা পাপ্পুকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না বলেও জানিয়েছেন। তদন্তের সূত্রে উঠে এসেছে আরেকটি নাম কল্যাণ শুক্লা। ইডি ইতিমধ্যেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, তাঁর বাড়ি থেকে জমি জালিয়াতি সংক্রান্ত কিছু নথিও উদ্ধার হয়েছে। সেই সূত্রেও তদন্ত এগোচ্ছে। অন্যদিকে, সোনা পাপ্পু-কাণ্ডে গ্রেফতার হওয়া ব্যবসায়ী জয় কামদারের সঙ্গেও শ্রেয়ার নাম জড়িয়েছে। যদিও শ্রেয়ার বক্তব্য, তিনি জয় কামদারের বাড়িতে কালীপুজোর অনুষ্ঠানে তিনবার গিয়েছিলেন মাত্র। সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুনঃ তৃণমূল মানেই কি খাট কালচার! পিছিয়ে নেই জাহাঙ্গীর
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসে রবীন্দ্র সরোবর এলাকায় এক বিবাদের ঘটনায় প্রথম আলোচনায় আসেন সোনা পাপ্পু। এরপর দীর্ঘদিন তাঁর খোঁজ না মিললেও সমাজমাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন তিনি। গত এপ্রিলে তাঁর বাড়ি এবং জয় কামদারের বাড়িতে একযোগে তল্লাশি চালায় ইডি। তদন্তকারীরা দাবি করেন, ওই অভিযানে নগদ অর্থ, একটি বিলাসবহুল গাড়ি এবং একাধিক সম্পত্তির নথি উদ্ধার হয়।
পরবর্তীতে গত ১৮ মে নিজেই ইডি দফতরে হাজির হন সোনা পাপ্পু। তিনি দাবি করেছিলেন, কোনও অপরাধ করেননি। তবে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ইডি সূত্রে দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, হুমকি-সহ একাধিক অভিযোগে বেশ কয়েকটি এফআইআর রয়েছে। কসবা ও বালিগঞ্জ-সহ দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এবার সেই তদন্তের সূত্র ধরেই শ্রেয়া পাণ্ডের নাম সামনে আসায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং ইডির জিজ্ঞাসাবাদের পরই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।


