হাজারো ব্যস্ততার মধ্যেও আমাদের জীবনকে আরও উন্নত করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যান তিনি। হাত ধরে হাঁটতে শেখান। হোঁচট খেয়ে পড়লে, ঘুরে দাঁড়াতে শেখান। মুক্ত আকাশে ওড়ার স্বপ্ন দেখাতে শেখান। আর সেই স্বপ্নপূরণের জন্য নিজের সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যান। ভিন্ন ভাষা ও সমাজে ডাকা হয় আলাদা নামে। কিন্তু প্রায় সব বাবারাই তাদের সন্তানের কাছে বটবৃক্ষসম। কয়েকটি শব্দে বাবাদের সংজ্ঞা দেওয়া মুশকিল। বলা চলে নিখাদ ভালবাসা এবং স্নেহের সঠিক সংজ্ঞা বাবা।

প্রত্যেক সন্তানের কাছে তার বাবা স্পেশাল। প্রতি বছর, বিশ্বজুড়ে পালিত হয় পিতৃ দিবস বা ফাদার্স ডে (Father’s Day)।পৃথিবী জুড়ে বিভিন্ন সময়ে এই দিন উদযাপন হলেও, জুন মাসের তৃতীয় রবিবার ভারতে পালিত হয় ফাদার্স ডে। এই বছর এই বিশেষ দিনটি পড়েছে ২১ জুন। এই ফাদার্স ডে-তে বাবা কিংবা পিতৃসমদের বিশেষ অনুভূতি দিতে পারেন এই মেসেজ পাঠিয়ে।
আরও পড়ুনঃ “এ শুধু গানের দিন…”; বিশ্ব সঙ্গীত দিবসে সকলকে বঙ্গবার্তার শুভেচ্ছা
ফাদার্স ডে ২০২৬–র মেসেজ
* আসলে তুমি আমার হিরো… ভালোবাসি তোমায় বাবা।
* তোমার মতো বাবা পেয়ে আমরা নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি। হ্যাপি ফাদার্স ডে।
* তুমিই আমাকে শিখিয়েছ জীবনে শক্ত থেকে কীভাবে লড়াই করে যেতে হয়…আমি তোমার কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকব। হ্যাপি ফাদার্স ডে!
* বাবা, তোমার আদর্শ এবং সততাই আমার জীবনের একমাত্র পথপ্রদর্শক।
* তোমার হাত ধরেই পৃথিবী চিনতে শিখেছি…হ্যাপি ফাদার্স ডে!
* তোমার ছায়াতলে বড় হওয়া আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য।
* আমার পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ বাবা।
* আমাকে সমর্থন করার জন্য, গাইড করার জন্য, প্রয়োজনের সময় আমাকে ভালোবাসার জন্য।
* তোমাকে অনেক অনেক ভালোবাসা বাবা।
* তুমিই আমার সুপার হিরো! হ্যাপি ফাদার্স ডে, বাবা…
* তোমার প্রতিটি উপদেশ আমার জীবনের এক একটি মূল্যবান রত্ন।

* তুমি স্তম্ভ, তুমি বিশ্বাস, তুমি আমার অস্তিত্ব, শুভ পিতৃ দিবস বাবা।
* তোমার স্নেহের শীতল ছায়ায় আমি পৃথিবীর সব দুঃখ ভুলে যাই।
* এভাবেই পাশে থেকো বাবা! অনেক ভালোবাসি তোমায়… হ্যাপি ফাদার্স ডে!
* বাবার কাছে আমি চিরঋণী। আমার জীবনের সমস্ত অর্জন তারই কাছ থেকে পাওয়া নৈতিকতা, বুদ্ধিমত্তা আর শারীরিক শিক্ষার ফল!
* দুনিয়ার সব স্বার্থপরতার মাঝে তোমার ভালোবাসাই একমাত্র খাঁটি।
* তোমার জন্যে রইলো অনেক খুশী, প্রতিদিনের জন্যে! হ্যাপি ফাদার্স ডে।
* বাবা মানে শত শাসন সত্ত্বেও এক নিবিড় ভালবাসা।
* বাবা, তুমি আমাদের পুরো পরিবারের প্রধান স্তম্ভ ও শক্তি।
* তোমরা অসীম ভালোবাসা ও ধৈর্যের জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ। তোমার পথ নির্দেশ ও বুদ্ধিমত্তার জোরে আমরা আমাদের জীবন গড়ে তুলতে পেরেছি।
* তুমি শিখিয়েছ মানুষকে সম্মান করতে এবং মানবিক হতে।
* তুমি আমার সাহস, আমার পরিচয়, হ্যাপি ফাদার্স ডে।
* তুমি ছাড়া আমি জীবনের পথ হারিয়ে ফেলব। আমাকে এই পৃথিবী দেখানোর জন্য ধন্যবাদ। তোমাকে অনেক অনেক ভালোবাসা। হ্যাপি ফাদার্স ডে।
* আমি ভাগ্যবান যে তোমার মতো একজন বাবা পেয়েছি। অনেক ধন্যবাদ বাবা.. হ্যাপি ফাদার্স ডে!
* তোমার সমর্থন, ভালোবাসা এবং আদর আমাদের অনুপ্রেরণা দেয়। তুমি অনেক ভালো থেকো বাবা।
* আমি আমার বাবার ভালোবাসার চেয়ে বড় কোনও ভালোবাসা খুঁজে পাইনি, হ্যাপি ফাদার্স ডে।
* তুমি শিখিয়েছ কীভাবে মাথা উঁচু করে আত্মসম্মানের সঙ্গে বাঁচতে হয়।
* দুনিয়ার সব কিছু বদলে গেলেও, বাবার ভালোবাসা কখনও বদলায় না। পিতৃ দিবসের শুভেচ্ছা।
* বাবার মর্যাদা ঈশ্বরের মতো, শুভ পিতৃ দিবস।
* যে কোনও কঠিন পরিস্থিতিতে ধৈর্য রাখার অনন্য শিক্ষা তোমার থেকেই পাওয়া।
* পৃথিবীর ভিড়ে যিনি আমার সবচেয়ে কাছের, আমার বাবা, আমার ঈশ্বর।
* সুস্থ ও দীর্ঘজীবী হও প্রিয় বাবা, হ্যাপি ফাদার্স ডে।
* যে আমাকে একজন ভাল মানুষ হিসাবে গড়ে তুলেছে, তাঁকে ফাদার্স ডে-র অনেক শুভেচ্ছা।
* বাবার সান্নিধ্যে জীবন সুখী মনে হয়, বেঁচে থাকার আবেগ পাই।
* আমার জীবনের প্রথম ও চিরন্তন অনুপ্রেরণা তুমি, বাবা।
আরও পড়ুনঃ বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের; নিষিদ্ধ হয়ে গেল ১৬টি ওষুধ
অনেকে মনে করেন শুধু একদিন কেন, রোজ হয়ে উঠুক ফাদার্স ডে। তবে বর্তমান সময় দাঁড়িয়ে, বাবাদের জন্য প্রতিটি দিন স্পেশাল করে তোলা কর্ম ব্যস্ততার ফাঁকে অসম্ভব। তাই একটা দিন যদি তাঁরা একটু ‘স্পেশাল ফিল’ করেন, তাহলে ক্ষতি কী?

বাবা দিবসের শুরু কীভাবে হল?
বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পিতৃ দিবস প্রথম পালিত হয়। এর পিছনে রয়েছে এক লম্বা ইতিহাস। পিতৃ দিবস পালনের উদ্যোগের কৃতিত্ব দেওয়া হয় সোনোরা স্মার্ট ডডকে। কেন? খুব ছোটো বয়সেই মাকে হারিয়ে ছিলেন ডড। তাঁর বাবাই তাদের ৬ ভাই বোনকে প্রতিপালন করেন আদরে,যত্নে। সন্তানদের প্রতি বাবার নিষ্ঠা, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ দেখে ডডের মনে হয় মাতৃদিবস যদি থাকে তবে পিতৃ দিবস হবে না কেন! বাবাদের জন্যও একটি বিশেষ দিন থাকা উচিৎ।
তাঁর উদ্যোগেই ১৯১০ সালে প্রথম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন রাজ্যের স্পোকেন শহরে প্রথম এই বাবাদের দিন উদযাপিত হয়। ধীরে ধীরে তার জনপ্রিয়তা এতোই বাড়ে যে পরে এটি জাতীয় স্বীকৃতি পায়। ১৯৭২ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিস্কন পিতৃদিবসকে জাতীয় ছুটির দিন ঘোষণা করেন।
পিতৃদিবস তো কেবল উদযাপন নয়, পিতৃস্থানীয়দের প্রতি কৃতজ্ঞতা শ্রদ্ধা প্রকাশের একটা উপলক্ষ। বাবারা এখন আর কেবল সন্তানদের আর্থিক নিরাপত্তা দেন না, তাকে মূল্যবোধ, ভ্রান্ত ধারণা থেকে বের করে আনা, শৃঙ্খলা ও আত্মবিশ্বাসের পথ দেখান। তাই বাবাকে ধন্যবাদ কখনই মুখে প্রকাশ করা যায় না, বাবারা একটু অন্তরালেই থেকে যেতে চান, তাই এই একটা দিন তাদেরকে একটু খুশি করার সুযোগ পাওয়া যায়।


