নয়াদিল্লি / ইসলামাবাদ:
গুজরাট সংলগ্ন ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের বিতর্কিত স্যার ক্রিক (Sir Creek) অঞ্চলে পাকিস্তানের নতুন সামরিক কৌশল ‘অপারেশন আবাবিল: দ্য ডিভাইন স্ট্রাইক’ (Operation Ababeel: The Divine Strike) বাস্তবায়নের খবর ঘিরে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই বিশেষ সামরিক অভিযানে ইসলামাবাদকে সরাসরি প্রযুক্তিগত ও সামরিক সাহায্য দিচ্ছে চিন এবং তুরস্ক।
যদিও পাকিস্তান, চীন বা তুরস্কের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। ভারত সরকারও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেনি।
আরও পড়ুনঃ শুভেন্দুর সঙ্গে ‘সেটিং’ করতে চেয়েছিলেন অভিষেক?মদনের বিস্ফোরক দাবি
‘অপারেশন আবাবিল’ এবং স্যার ক্রিক সীমান্ত
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুজরাটের কচ্ছ সীমান্ত সংলগ্ন স্যার ক্রিক এবং সংবেদনশীল ‘হারামি নালা’ এলাকায় পাকিস্তান তাদের সামরিক উপস্থিতি নজিরবিহীনভাবে বৃদ্ধি করছে:
-
বিশেষ কমান্ডো বাহিনী মোতায়েন: পাকিস্তান নৌবাহিনীর সুপ্রসিদ্ধ স্পেশ্যাল সার্ভিস গ্রুপ (SSG-N)-এর কমান্ডোদের এই কাদামাটি ও জলাভূমি পরিবেষ্টিত অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে।
-
তুর্কি ড্রোন ও নজরদারি: সীমান্তে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাতে এবং প্রয়োজনে দ্রুত সুনির্দিষ্ট হামলা চালাতে সক্ষম তুরস্কের তৈরি অত্যাধুনিক সশস্ত্র ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে।
-
চীনা হোভারক্রাফ্ট ও অ্যাসল্ট ক্রাফ্ট: স্যার ক্রিকের ভৌগোলিক গঠন অত্যন্ত জটিল ও অগভীর হওয়ায় সাধারণ যুদ্ধজাহাজ চলাচল অসম্ভব। তাই চীনা সহায়তায় নির্মিত বিশেষ ধরনের হোভারক্রাফ্ট এবং মেরিন অ্যাসল্ট ক্রাফ্ট যুক্ত করা হয়েছে, যা যেকোনো ঋতুতে দ্রুত সেনা সরানোর কাজে ব্যবহৃত হবে।
আরও পড়ুনঃ চিরঘুমের দেশে পাড়ি; ‘ময়না ছলাৎ ছলাৎ’-এর কণ্ঠ স্তব্ধ
পাকিস্তান নৌবহরে চীন ও তুরস্কের সাহায্য
দক্ষিণ এশিয়া, আরব সাগর, লোহিত সাগর এবং ভারত মহাসাগরে নিজেদের নৌ-কৌশলগত প্রভাব বাড়াতে চীনের কাছ থেকে ধারাবাহিক সামরিক সহায়তা পাচ্ছে পাকিস্তান:
-
হ্যাংগর-শ্রেণির স্টেলথ সাবমেরিন: চীন সম্প্রতি পাকিস্তানের হাতে তাদের প্রথম ‘হ্যাংগর-ক্লাস’ (Hangor-class) স্টেলথ সাবমেরিন তুলে দিয়েছে।
-
তুঘরাইল-শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ: পাকিস্তান নৌবহরে যুক্ত হয়েছে চীনের সহায়তায় নির্মিত টাইপ ০৫৪এ/পি বা ‘তুঘরাইল-শ্রেণির’ (Tughril-class) আধুনিক গাইডেড-মিসাইল ফ্রিগেট।
-
নতুন মেরিন সিকিউরিটি পোস্ট: স্যার ক্রিক উপকূলীয় অঞ্চলে পাকিস্তান কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনী একাধিক নতুন মেরিন পোস্ট ও পহলদারি চৌকি স্থাপন করেছে।
ভারতের অবস্থান ও সীমান্ত নিরাপত্তা
স্যার ক্রিক অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরেই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্ত নির্ধারণ সংক্রান্ত জটিলতার কারণে অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এই নদী-অঞ্চল ও সংলগ্ন সমুদ্রসীমা দিয়ে অনুপ্রবেশ রোধে ভারতীয় নৌসেনা (Indian Navy) এবং ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী (Indian Coast Guard) নিরবিচ্ছিন্ন টহল জারি রেখেছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর থেকেই ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছিল। তার পর থেকে পশ্চিম সীমান্ত এবং আরব সাগরের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনে ভারত তার প্রতিরক্ষা ও নজরদারি ব্যবস্থা বহুগুণ জোরদার করেছে। সরকারি স্তরে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না এলেও, বিষয়টি ভারতের প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলির কড়া নজরদারিতে রয়েছে।


