রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে পরিকাঠামো উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দিলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। সোমবার বিধানসভায় বাজেট পেশ করতে গিয়ে তিনি একাধিক উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের ঘোষণা করেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য পূর্ব মেদিনীপুরের দাদনপাত্রবাড়ে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ, বীরভূমে ময়ূরাক্ষী নদীর উপর চার লেনের সেতু এবং দুর্গাপুর, আসানসোল ও শিলিগুড়িতে মেট্রো রেল পরিষেবা চালুর প্রস্তাব।
আরও পড়ুনঃ বাংলা ঢেকে যাবে আকাশপথে; কলকাতার কাছে আরও একটি এয়ারপোর্ট
অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, দাদনপাত্রবাড়ে একটি আধুনিক গভীর সমুদ্রবন্দর গড়ে তোলা হবে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে। দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিমবঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ গভীর সমুদ্রবন্দরের দাবি উঠছিল। রাজ্যের উপকূলীয় বাণিজ্য, আমদানি-রপ্তানি এবং শিল্প বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এই প্রকল্পকে গেমচেঞ্জার বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সরকারের আশা, এই বন্দর চালু হলে পূর্ব ভারতের সামুদ্রিক বাণিজ্যে পশ্চিমবঙ্গের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে এবং বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
আরও পড়ুনঃ কর্মসংস্থানে চমক! ১ লক্ষ শূন্যপদ পূরণের ঘোষণা
বাজেটে বীরভূম জেলার জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছে। ময়ূরাক্ষী নদীর উপর চার লেনের একটি আধুনিক সেতু নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে জেলার বিভিন্ন এলাকার মধ্যে যোগাযোগ আরও দ্রুত ও নিরাপদ হবে। পাশাপাশি কৃষি, ব্যবসা এবং পর্যটনের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছে প্রশাসন।
তবে বাজেটের সবচেয়ে চমকপ্রদ ঘোষণাগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল রাজ্যের তিন গুরুত্বপূর্ণ শহরে মেট্রো রেল পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা। অর্থমন্ত্রী জানান, দুর্গাপুর, আসানসোল এবং শিলিগুড়িতে মেট্রো পরিষেবা চালুর জন্য প্রাথমিক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। কলকাতার বাইরে এই তিন শহরে মেট্রো চালু হলে নগর পরিবহণ ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে বলে মনে করছেন পরিবহণ বিশেষজ্ঞরা।
দুর্গাপুর-আসানসোল শিল্পাঞ্চলে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষের যাতায়াত হয়। একইভাবে উত্তরবঙ্গের বাণিজ্যিক কেন্দ্র শিলিগুড়িও দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। সেই কারণে ভবিষ্যতের পরিবহণ চাহিদার কথা মাথায় রেখেই এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে সরকারি সূত্রের দাবি।
সব মিলিয়ে, বন্দর, সেতু এবং আধুনিক গণপরিবহণ ব্যবস্থার মতো বৃহৎ পরিকাঠামো প্রকল্পের ঘোষণা করে নতুন সরকার উন্নয়ন ও বিনিয়োগমুখী অর্থনৈতিক রূপরেখার ইঙ্গিত দিয়েছে। রাজনৈতিক ও শিল্পমহলের মতে, এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।


