বুধবার দুপুরে ভয়াবহ দুর্ঘটনা তারতলায়। কারখানার ছাদ ভেঙে মৃত্যু একাধিক কর্মীর। আটকে বহু মানুষ। দ্রুত উদ্ধার করে আহতদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এসএসকেএমে। তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। এই ঘটনার পরই কলকাতা শহরের নির্মাণকাজ নিয়ে বড় নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
ভয়াবহ দুর্ঘটনার সাক্ষী কলকাতা ৷ তারতলায় ভেঙে পড়ল নির্মীয়মাণ গোডাউনের শেড ৷ বেশ কয়েকজনের প্রাণ গিয়েছে ৷ ভেতর থেকে আটকে থাকা মানুষদের আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে ৷ ইতিমধ্যেই কয়েকজনকে উদ্ধার করা হয়েছে ৷ এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের নানা খুঁটিনাটি বিষয় তদারকি করতে বিকেল পৌনে 5টা নাগাদ ঘটনাস্থলে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগেই গিয়েছিলেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল থেকে শুরু করে মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খান-সহ অন্যরা ৷ ঘটনাস্থল দেখে ফিরে গিয়ে নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখিও হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ৷
আরও পড়ুনঃ আটকে আছেন কারা? শুনেই ভেসে আসে আর্তনাদ
নির্মাণ নিয়ে নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর
সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, তারাতলার এই ঘটনার পর তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, কলকাতা পুরনিগমের অন্তর্ভুক্ত এলাকায় নির্মাণকাজ আপাতত বন্ধ রাখতে হবে। পূর্বতন সরকারের আমলে যে সব নির্মাণের ক্ষেত্রে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, সেগুলি ফের খতিয়ে দেখা হবে। ৩১ জুলাই পর্যন্ত ওই সব কাজ বন্ধ রাখতে হবে। বিশেষ টিম দিয়ে অডিট করানো হবে। সব ঠিক থাকলে ১ অগস্ট থেকে ফের কাজ শুরু করা যাবে। আপাতত কলকাতার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে বিধাননগর ও হাওড়াতেও এই কাজ চলবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
শুভেন্দু বলেন, “মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে কলকাতা পুরসভা, পূর্ত দফতর, সিভিল ডিফেন্স, দমকল বিভাগ এবং পুলিশ , কেএমডিএ-র প্রতিনিধিদের নিয়ে টিম তৈরি করা হবে। যে সব জায়গায় পোর্ট এবং মেট্রো অথরিটির আধিকারিকদের প্রয়োজন, তাঁদের নিয়ে অডিট কমিটি তৈরি করা হবে।”
‘সেনা এবং এনডিআরএফ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাওয়াতেই এত লোকজনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা গিয়েছে’,
হাওড়া ও বিধাননগরেও নির্মাণ কাজ বন্ধ !
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কেএমডিএ’র কমিশনার এবং ইউডিএমএ’র উপস্থিতিতে আমরা জানিয়েছি, পরবর্তীকালে হাওড়া ও বিধাননগরেও আমরা যে সমস্ত নকশার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে সেগুলি খতিয়ে দেখব ৷ সেটা নগরোন্নয়ন দফতর করতে পারে ৷ আমি কলকাতা কর্পোরেশনকে সরাসরি নির্দেশ দিয়েছি- আগের সরকার বা পুরনিগমের আমলে অনুমোদন পাওয়া যত নির্মীয়মান কাজ হচ্ছে, বিশেষত কমার্শিয়াল বা যেখানে জলাশয় বুজিয়ে কাজ হচ্ছে, সেখানে 31 জুলাই পর্যন্ত কাজ বন্ধ থাকবে এবং অডিট হবে ৷”


