ভারতীয় নৌবাহিনী আবারও সমুদ্রে তাদের শক্তি ও তৎপরতার প্রমাণ দিয়েছে। এডেন উপসাগরে ভারতীয় যুদ্ধজাহাজ ‘আইএনএস ত্রিকান্দ’ জলদস্যুদের একটি বড় ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিয়েছে। জলদস্যুরা ভারতের জন্য অত্যাবশ্যকীয় পণ্যবাহী কার্গো জাহাজ ‘এমভি গোল্ডেন আর্সেনাল’-কে টার্গেট করে। জানা গিয়েছে জাহাজটিতে একজন ভারতীয় নাবিকও ছিলেন। ভারতীয় নৌবাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপ এবং মার্কোস কমান্ডোদের তৎপরতার ফলে জাহাজ ও এর নাবিকদের নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
আরও পড়ুনঃ ক্ষোভে ফুঁসছে পরিবার; নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনে ছাত্রের রহস্যমৃত্যু
বিভিন্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী, জলদস্যুরা ‘এমভি গোল্ডেন আর্সেনাল’ নামের একটি বাণিজ্যিক জাহাজকে টার্গেট করে। জাহাজটিতে একজন ভারতীয় নাবিক ছিলেন এবং এতে ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পণ্য বোঝাই করা ছিল। হামলার সময় নাবিকরা অত্যন্ত উপস্থিত বুদ্ধির পরিচয় দেন; তাঁরা নিজেদের জাহাজের একটি সুরক্ষিত কক্ষে আবদ্ধ করেন এবং অবিলম্বে রেডিও যোগাযোগের মাধ্যমে ভারতীয় নৌবাহিনীর কাছে বিপদসংকেত পাঠান। এর ফলে জলদস্যুরা জাহাজটির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে ব্যর্থ হয়।
আইএনএস ত্রিকান্ড-কে দেখে জলদস্যুদের পালায়
সংকটকালীন সংকেত পাওয়ার পর, কাছাকাছি অবস্থানরত ভারতীয় যুদ্ধজাহাজ ‘আইএনএস ত্রিকান্ড’ দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হয়। ভারতীয় নৌবাহিনীর উপস্থিতি এবং তাদের হস্তক্ষেপের আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে জলদস্যুরা এলাকা থেকে পালিয়ে যায়। জলদস্যুরা পালিয়ে যাওয়ার পর ভারতীয় নৌবাহিনীর মেরিন কমান্ডোরা—যারা ‘মার্কোস’ নামে পরিচিত—জাহাজটিতে প্রবেশ করেন। তাঁরা পুরো জাহাজটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তল্লাশি করেন এবং নিশ্চিত হন যে সেখানে কোনো হুমকি বা জলদস্যু আর অবশিষ্ট নেই। এরপর জাহাজটিকে সম্পূর্ণ নিরাপদ ঘোষণা করা হয়।
এই অভিযানটি আবারও প্রমাণ করেছে যে, ভারত মহাসাগর ও সংলগ্ন জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজ এবং সামুদ্রিক রুটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারতীয় নৌবাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আইএনএস ত্রিকান্ডের এই পদক্ষেপ বিশ্বমঞ্চে ভারতের ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক শক্তি ও অভিযানের জন্য প্রস্তুতির বিষয়টিও তুলে ধরেছে।


