কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
আজ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাগডোগরার বিহারমোড় ট্রাফিক পয়েন্টে ঘটে গেল এক ভয়ংকর দুর্ঘটনা, যা পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। রায়গঞ্জ থেকে ফালাকাটা ও আলিপুরদুয়ারগামী এক যাত্রীবাহী বাস স্টপেজে দাঁড়িয়ে যাত্রী নামানোর পর ব্রেক ফেল হয়ে যায়। চালক চেষ্টা করেন বাস নিয়ন্ত্রণে রাখতে, কিন্তু পরিস্থিতি দ্রুতই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
আরও পড়ুনঃ ঘূর্ণাবর্তের খেলা! আপাতত দক্ষিণবঙ্গ কিছুটা শান্ত, আজ রাত থেকে পুনরায় বৃষ্টি
বাস থেকে হুড়োহুড়ি করে নামার সময় অন্তত ১০ জন যাত্রী আহত হন, এবং একজন আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েন। সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা হলো, এক দুর্ভাগ্যবান যাত্রী বাসের পিছনের চাকার নীচে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। পুলিশ নিশ্চিত করেছে, তিনি ওই বাসের যাত্রী ছিলেন, তবে তার পরিচয় এখনও জানা যায়নি।
চালক ও কন্ডাক্টর দুর্ঘটনার পর থেকে পলাতক। বাগডোগরা থানার পুলিশ ইতিমধ্যে বাসটিকে নিজেদের হেপাজতে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে এবং পলাতক চালক-কন্ডাক্টরের সন্ধানে তৎপর রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ কর্মীদের ত্যাগের মূল্য কোথায়?
স্থানীয়রা জানাচ্ছে, চালকের দ্রুত সিদ্ধান্তের কারণেই আজ বড় বিপর্যয় এড়ানো গেছে। ব্রেক ফেল বুঝে তিনি বাসটিকে ডানদিকে ঘুরিয়ে উড়ালপুলের পিলারে ধাক্কা মেরে থামানোর চেষ্টা করেন, যা অনেক মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছে। যদি বাসটি বাম দিকে গিয়ে পড়ত, তাহলে সারিবদ্ধ থাকা টোটো ও এটিএম লাইনে থাকা অনেকেই বাসের তলায় চাপা পড়তে পারতেন।
তবে এই দুর্ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে ওই ট্রাফিক পয়েন্ট ও উড়ালপুলের নীচের টার্নিং পয়েন্ট নিয়ে গভীর আতঙ্ক ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। আহত যাত্রীদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।
এই দুর্ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, রাস্তায় নিরাপত্তার জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা অপরিহার্য, আর দ্রুত বুদ্ধিমত্তা অনেক সময় প্রাণ বাঁচাতে পারে। একদিকে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি, অন্যদিকে এই ধরনের বিপজ্জনক সড়ক পরিস্থিতি সমাধানের প্রয়োজনও তীব্র।


