তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ শিবির ও ‘কালীঘাট’ শিবিরের দ্বন্দ্ব জেলা স্তরে প্রবাহিত হয়েছে। শুক্রবার তপসিয়ার হোটেলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন ‘আসল’ তৃণমূল রাজ্য কমিটির শীর্ষ নেতা হিসেবে বিপ্লব মিত্র ও জাভেদ খানের নাম ঘোষণা করেছিল। এর মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঋতপন্থী শিবির জেলা কমিটি ও মুখপাত্রদের নাম ঘোষণা করে পাল্টা জবাব দিয়েছে। বীরভূম জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মমতার প্রাক্তন আস্থাভাজন অনুব্রত মণ্ডলকে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একচ্ছত্র কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানাতে ঋতব্রত শিবির একের পর এক পদক্ষেপ নিচ্ছে। শনিবার পানিহাটির হেভিওয়েট নেতা নির্মল ঘোষ সহ রঞ্জন সরকার, নারায়ণ গোস্বামী, কোহিনুর মজুমদার, আব্দুল খালেক মোল্লা, জোৎস্না মান্ডি, শান্তনু সেন, আসানসোলের প্রাক্তন মেয়র বিধান উপাধ্যায় ও ডেপুটি মেয়র ওয়াসিমুল হক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুনঃ বিজেপির নিচুতলায় চলবে না ‘তৃণমূলীকরণ’! কর্মীদের স্পষ্ট বার্তা শমীকের
ঋতব্রত শিবিরের জেলা সভাপতিদের তালিকায় উল্লেখযোগ্য নামগুলো হলো:
- আলিপুরদুয়ার: বিনোদ মিঞ্জ
- জলপাইগুড়ি: মহুয়া গোপ
- দার্জিলিং: রঞ্জন সরকার
- উত্তর দিনাজপুর: সন্দীপ বিশ্বাস
- দক্ষিণ দিনাজপুর: আনিসুর রহমান
- মালদহ: প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়
- মুর্শিদাবাদ: অপূর্ব সরকার
- কৃষ্ণনগর: জেবের শেখ
- বীরভূম: অনুব্রত মণ্ডল
- উত্তর কলকাতা: সন্দীপন সাহা
- দক্ষিণ কলকাতা: দেবাশিস কুমার
- হাওড়া সদর: সৃষ্টিধর ঘোষ
- হুগলি: সন্তোষ সিং
- বাঁকুড়া: রথীন বন্দ্যোপাধ্যায়
- পূর্ব বর্ধমান: রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়
- পশ্চিম বর্ধমান: নরেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়
কোচবিহার, পূর্ব মেদিনীপুর, উত্তর ২৪ পরগনা সহ কিছু জেলায় আপাতত দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।
আরও পড়ুনঃ ভয়াবহ আকার নিতে চলেছে পাক সেনার নৃশংসতা; অধিকৃত কাশ্মীরে গণহত্যার ছক পাকিস্তানের!
দলের চিফ মুখপাত্র হয়েছেন প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্য মুখপাত্ররা হলেন সন্দীপন সাহা, আখরুজ্জামান, কোহিনুর মজুমদার, সুদীপ সাহা, স্নেহাশিস চক্রবর্তী, শান্তনু সেন, অপূর্ব সরকার।
এই সমান্তরাল সংগঠন গঠন কালীঘাট শিবিরের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং জেলা স্তরেও রাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্র হয়েছে।


