রাজ্য বিধানসভায় পাশ হওয়ার পরই সোমবার থেকে রাজ্যে কার্যকর হয়েছে গুন্ডাদমন আইন। এদিকে, এই সোমবার ভোরেই বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়েতে চাঞ্চল্যকর শুটআউটের ঘটনা ঘটে। গ্যাংওয়ার-র জেরে মৃত্যু হয়েছে কুখ্যাত দুষ্কৃতী রাজা দত্তর।
রাজা ছাড়াও গুরুতর জখম রাজার দুই শাগরেদ। এ দিন সকালে শুটআউট হয় বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ের খলিসাকোটায় এলাকায়। শুটআউটের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। সেখান থেকে রাজা সহ বাকিদের আরজি কর মেডিক্যেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রাজাকে মৃত ঘোষণা করা হয় এবং আহত দু’জনের চিকিৎসা চলছে।
জানা যাচ্ছে, রাজা ও তার সঙ্গীরা ঘটনাস্থলে বাইকে চেপে আসে। সেখানে তাদের সঙ্গে কয়েকজনের বাদানুবাদ হয়। তার পরেই রাজার কাছ থেকে বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে রাজাকে গুলি করা হয় বলে খবর। রাজা খুনের অভিযোগ সুমন নামে এক যুবকের দিকে। সূত্রের খবর, সুমনের সঙ্গে পুরোনো শত্রুতা ছিল রাজার। পুলিশ ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।
আরও পড়ুনঃ সমাজবিরোধীরা সাবধান; বঙ্গে কার্যকর হয়ে গেল ‘গুন্ডাদমন আইন’
আজ থেকে রাজ্যে লাগু গুন্ডাদমন আইন-
উল্লেখ্য, আজ সোমবার থেকেই লাগু হচ্ছে রাজ্যে গুন্ডাদমন আইন। এই আইনের আওতায় অশান্তির আঁচ পেলেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে পারবে পুলিশ। সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তি নষ্টে গুন্ডাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তও করার রাস্তা খোলা রয়েছে এই আইন অনুসারে। এছাড়া যে কোনও সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তি নষ্টের ক্ষেত্রে এবার থেকে গুন্ডাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তও করতে পারবে সরকার। নতুন এই আইনের পোশাকি নাম ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশাল অ্যাক্টিভিটিজ় অ্যাক্ট, ২০২৬’। এছাড়াও এই আইন অনুসারে কোনও জেলার জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনার বা ডিআইজি পদমর্যাদার আধিকারিকেরা যদি নিশ্চিত হন যে, কোনও অপরাধী কিম্বা গুন্ডা নির্দিষ্ট এলাকায় থাকলে, তারা অশান্তি ছড়াতে পারে, তাহলে সেই অপরাধীকে সর্বোচ্চ এক বছরের জন্য নির্দিষ্ট এলাকা বা গোটা জেলা থেকে বহিষ্কার-এর নির্দেশ দিতে পারবেন।
রাজার মৃত্যু কী ভাবে হল, এখনও স্পষ্ট নয়। তার জন্য এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে পাঁচ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। তবে এখনও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। পুলিশ সূত্রে খবর, সোমবার ভোরে উত্তর দমদম পুরসভা এলাকার খলিসাকোটায় একটি গ্যারাজের ধারে রাজার দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। তিনি বিরাটির বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর আরও দুই সঙ্গী আহত হয়েছেন। তাঁরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রাজাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতাল এবং পরে আরজি কর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।
রাজার খুনের নেপথ্যে গোষ্ঠী সংঘর্ষ (গ্যাংওয়ার) রয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করছে পুলিশ। ভোরবেলা বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ের ধার দিয়ে বাইক নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। সেই সময় কোনও বিরোধী গোষ্ঠীর মুখোমুখি হয়ে থাকতে পারেন, অনুমান পুলিশের। তবে কী নিয়ে তাঁদের মধ্যে বচসা হয়েছিল, এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজার কাছেও অস্ত্র ছিল। দুষ্কৃতীরা খুব কাছ থেকে তাঁকে গুলি করে। কোন রাস্তা দিয়ে তারা পালিয়ে গিয়েছে, খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, খলিসাকোটার ওই এলাকায় আগে থেকেই দুষ্কৃতীরা উপস্থিত ছিল। তারা রাজার পূর্বপরিচিত বলে মনে করা হচ্ছে। সেখানেই দুই সঙ্গীকে নিয়ে পৌঁছোন রাজা। তাঁর কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র কেড়ে নিয়েই তাঁকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করা হয়েছে, প্রাথমিক ভাবে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
গুলি চলার খবর পেয়ে দমদম থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিল। তারাই রাজাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সূত্রের খবর, প্রথমে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল স্থানীয় একটি হাসপাতালে। পরে সেখান থেকে আরজি করে স্থানান্তরিত করা হয়। কিন্তু সেখানেই চিকিৎসকেরা রাজাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুলিশ সূত্রে দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই অপরাধমূলক কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত রাজা। পুরনো কোনও বিবাদ থেকে এই সংঘর্ষ হয়ে থাকতে পারে। এর সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়েছেন ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসি (দক্ষিণ) শামীর আহমেদ।
স্থানীয় বিজেপি কর্মী অভিজিৎ চৌধুরী বলেন, ‘‘এখানে তৃণমূলের একটা পার্টি অফিস ছিল। সেখানে কিছু দুষ্কৃতী থাকত। আমরা খবর পাই, রাতে সেই অফিসে ভাঙচুর হয়েছে। কারা করেছে, জানি না। এখানে রাস্তার ধারে একটা বড় সরস্বতী পুজো হয়। সেখানেই রাজা দত্তকে খুন করা হয়েছে। তিনি এখানকার কুখ্যাত দুষ্কৃতী। পুলিশ এলাকা ঘিরে রেখেছে। তদন্ত চলছে। একটা দুষ্কৃতীদল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসের বাতাবরণ তৈরি করে রেখেছে। জমি দখল, মারধর, ভাঙচুর, সব চলছে। ১৯ নম্বর ওয়ার্ড পুরোপুরি দুষ্কৃতীমুক্ত হোক, সেটাই চাই।’’


