Wednesday, 15 July, 2026
15 July
HomeকলকাতাMadan Mitra: 'পার্টি ডুব গয়া হ্যা…,' 'সুখের পালঙ্ক ছেড়ে খাটিয়ায়' মদন

Madan Mitra: ‘পার্টি ডুব গয়া হ্যা…,’ ‘সুখের পালঙ্ক ছেড়ে খাটিয়ায়’ মদন

ফের ভাঙন কালীঘাট তৃণমূলে। এ বার কালীঘাট তৃণমূল ছাড়লেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আস্থাভাজন বলে পরিচিত মদন মিত্র।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা তথা কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র জল্পনা বাড়ছিল। একদিকে তাঁর স্ত্রী ও দুই পুত্রকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি), অন্যদিকে সেই নোটিসের পরই এন্টালির প্রাক্তন বিধায়ক স্বর্ণকমল সাহার বাড়িতে তাঁর দীর্ঘ বৈঠক ঘিরে শুরু হয় নতুন রাজনৈতিক জল্পনা। তদন্ত এবং রাজনৈতিক সমীকরণ—দুই ক্ষেত্রেই মদন মিত্রকে নিয়ে এখন জোর চর্চা চলছিল। এরই মাঝে আজ কালীঘাট তৃণমূলের সব পদ থেকে পদত্যাগ করলেন মদন। আজ বিধানসভায় ঋত শিবিরের সন্দীপন সাহা, আখরুজ্জামানদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ত্যাগ করেন মমতার সঙ্গ।

আরও পড়ুনঃ ‘হাত-পা ধরেও রেহাই মেলেনি’, জামালপুরে গ্রেপ্তার বিজেপি নেতা সুশান্ত মণ্ডল

শিবির বদল করে মমতার প্রতি মদন মিত্রের বার্তা, ‘পার্টি ডুব গয়া হ্যা। দল তো সবার কিন্তু অভিষেকের জন্যেই মনে হয় শুধু দলটা আছে। সবাইকে মরতে দেওয়া হচ্ছে, শুধু অভিষেককে বাঁচাতে। মমতাদির কাছে আমার বার্তা- এটা ম্যারাথন। পথে দেখা তো হবে। অভিষেকের জন্যেই আজ দলের এই বেহাল দশা। আমি শুধু তৃণমূলের বিধায়ক নই, বাংলার বিধায়ক। তৃণমূলে আমি যে সব পদে ছিলাম, সব ছেড়েছি। ওগুলো এমনিতেও কলাপাতায় লেখা পদ ছিল। বাংলার ইতিহাস যখন লেখা হবে, তখন লেখা হবে যে একটা মানুষের জন্য ২১৩ আসন পাওয়া দল ধ্বংস হয়েছে। সেই মানুষটা অভিষেক।’

এর আগে গতকাল, মঙ্গলবার রাতে স্বর্ণকমল সাহার এন্টালির বাড়িতে যান মদন মিত্র। সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা হয়। রাত প্রায় সাড়ে দশটা পর্যন্ত তিনি ওই বাড়িতেই ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। যদিও বৈঠকের বিষয়বস্তু নিয়ে কোনও পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খোলেনি, তবু এই সাক্ষাৎ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

আরও পড়ুনঃ বাড়িতে বউ, বাইরে একাধিক সম্পর্ক! বলিউডের ‘প্লেবয়’

এই বৈঠককে ঘিরে জল্পনা বেড়েছিল কারণ, স্বর্ণকমল সাহা এবং তাঁর ছেলে তথা এন্টালির বর্তমান বিধায়ক সন্দীপন সাহা বর্তমানে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে পরিচিত। রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূল কংগ্রেসে যে বড়সড় ভাঙন দেখা দিয়েছে, তার পর থেকেই একাধিক প্রবীণ নেতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীতে যোগ দিয়েছেন। ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অরূপ বিশ্বাস, অনুব্রত মণ্ডলের মতো একাধিক পরিচিত নেতার নাম সেই তালিকায় রয়েছে।

তবে এতদিন পর্যন্ত মদন মিত্র প্রকাশ্যে বারবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আনুগত্যের বার্তা দিয়েছেন। নিজেকে তৃণমূল নেত্রীর বিশ্বস্ত সৈনিক বলেই তুলে ধরেছেন তিনি। সেই কারণেই স্বর্ণকমল সাহার বাড়িতে তাঁর এই বৈঠককে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে, তবে কি তিনিও রাজনৈতিক অবস্থান বদলানোর পথে? যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত মদন মিত্র বা সংশ্লিষ্ট অন্য কোনও নেতা প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি। ফলে বৈঠকের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই গিয়েছে।

অন্যদিকে, কামারহাটি পুরসভার নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তদন্তের পরিধি আরও বাড়িয়েছে ইডি। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, পুরসভার নিয়োগ সংক্রান্ত একাধিক সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনে মদন মিত্রের পরিবারের সদস্যদের নাম উঠে এসেছে। সেই সূত্রেই তাঁর স্ত্রী এবং দুই পুত্রকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে। তদন্তকারীরা আর্থিক লেনদেন, সম্পত্তি এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সম্পর্কে তাঁদের কাছ থেকে তথ্য জানতে চাইবেন বলে সূত্রের খবর।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের জুন মাসেই এই মামলার তদন্তে মদন মিত্রের একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। ভবানীপুরের বাসভবন ছাড়াও দক্ষিণেশ্বর-সহ একাধিক জায়গায় অভিযান চালিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথি, ডিজিটাল তথ্য এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বেশ কিছু তথ্য সংগ্রহ করা হয়। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই এবার তাঁর পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

 

 

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন