ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ISRO দীর্ঘদিন ধরে সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে উঠে এসেছে, যেখানে চন্দ্রযান, আদিত্য-এল১ ও আসন্ন গগনযান মিশনগুলি অন্যতম গর্বের অধ্যায়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ের একটি উদ্বেগজনক তথ্য হলো, গত কয়েক মাসে ১০০-এরও বেশি দক্ষ বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলী ISRO-কে ছেড়ে গেছেন।
এই পদত্যাগের ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের ডিপার্টমেন্ট অব স্পেস পদত্যাগ অনুমোদনের নিয়মে পরিবর্তন এনেছে। গগনযানসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে কর্মরত উচ্চপর্যায়ের বিজ্ঞানীদের পদত্যাগ এখন সরাসরি সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ডিরেক্টরদের অনুমোদনে হবে না, বরং প্রতিটি আবেদন ডিপার্টমেন্ট অব স্পেসের স্তরে পাঠিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হবে।
পদত্যাগের পেছনে মূলত বেসরকারি মহাকাশ শিল্পের দ্রুত বৃদ্ধি এবং সেখানে আকর্ষণীয় বেতন, দ্রুত পদোন্নতি ও উন্নত প্রযুক্তির কাজ করার সুযোগের কারণ বলা হচ্ছে। বিদেশের মহাকাশ সংস্থাগুলোও দক্ষ বিজ্ঞানীদের আকৃষ্ট করছে। ISRO-এর অভিজ্ঞ বিজ্ঞানীরা যেমন এলভিএম-৩ উৎক্ষেপণযান, SpaDeX প্রকল্প এবং চন্দ্রযান-৩-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ মিশনে কাজ করছিলেন, তাঁরা এই পদত্যাগের তালিকায় রয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ সপ্তাহান্তে বাতিল একাধিক ট্রেন; নৈহাটি জংশনে আধুনিকীকরণের কাজ
২০১২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মোট প্রায় ৭০০ জন কর্মী ISRO ত্যাগ করেছেন, যা মোট কর্মীসংখ্যার তুলনায় কম হলেও গগনযান, ভারতীয় মহাকাশ স্টেশন ও অন্যান্য ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্পের জন্য অভিজ্ঞ ও দক্ষ জনবলের ক্ষতি স্বভাবতই গুরুতর।

এই পরিস্থিতিতে গগনযান মিশনের নির্ধারিত সময়মতো শুরু হওয়া নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। পদত্যাগের পর বেশিরভাগ বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলী বেসরকারি সেক্টর, স্টার্টআপ এবং অ্যারোস্পেস কোম্পানিতে নেতৃত্ব ও প্রযুক্তিগত পদে যোগ দিচ্ছেন।
আরও পড়ুনঃ ব্রাত্যই বা ব্রাত্য থাকবেন কেন? ঘাসফুল শিবিরে ভুমিকম্প
সরকার ও ISRO এখনও এই পরিস্থিতির পূর্ণ ব্যাখ্যা বা পদক্ষেপের বিস্তারিত প্রকাশ করেনি, তবে পদত্যাগের সংখ্যা ও প্রভাবের কারণে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।


