কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে এক তরুণের আত্মাহুতির ঘটনা বর্তমানে বলেন্দ্র শাহের সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছে। ২৫ বছর বয়সী গণেশ নেপালি দীর্ঘ ঋণের বোঝা, জীবিকার অনিশ্চয়তা এবং প্রশাসনের আচরণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে, প্রকাশ্য রাস্তায় নিজের গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন। তাঁর মৃত্যুর পর থেকে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে এবং সংসদ অধিবেশন স্থগিত করতে হয়েছে। মাত্র চার মাস আগে ক্ষমতায় আসা বলেন্দ্র শাহ সরকারের জন্য এটি একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ।
গণেশ নেপালি বাইকচালক ছিলেন এবং একটি রাইড-শেয়ারিং অ্যাপের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কাঠমান্ডুর পাসপোর্ট দফতরের বাইরে রাস্তা আটকে রাখার অভিযোগে পুলিশ তাঁর মোটরবাইকের চাকায় ক্ল্যাম্প লাগিয়ে দেন, যার পর কর্তব্যরত এক আধিকারিকের সঙ্গে তাঁর তীব্র বচসা হয়। এর পরেই তিনি নিজের বাইকে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেন। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হলেও একদিন পর মৃত্যু হয়।
পরিবার জানায়, ঋণ করে কেনা বাইকের কিস্তি শোধের চাপ ও বাজেয়াপ্ত হওয়ার ভয়ে গণেশ মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তাঁর বাড়ি নেপালের প্রত্যন্ত মুগু জেলায় এবং পরিবার কৃষক। বড় ভাই কাঠমান্ডুতে দিনমজুরের কাজ করেন এবং দুই ভাইয়ের স্বপ্ন ছিল বিদেশে কাজ করা।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নেপালে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিরোধীরা সরকারকে আক্রমণ করলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, বিরোধীরা রাজনৈতিক স্বার্থে এই ঘটনাকে ব্যবহার করছেন। সরকারের তরফ থেকে ক্ষতিপূরণমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গণেশের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে সরকারি চাকরি দেওয়া হবে এবং মেয়ের শিক্ষার দায়িত্ব সরকার নেবে। পাশাপাশি তাকে নাগরিকত্বের শংসাপত্র দেওয়া হয়েছে। একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে এবং গণেশকে ‘শহিদ’ মর্যাদা দেওয়ার বিষয় বিবেচনা চলছে।
আরও পড়ুনঃ রথের রশি ছুঁতে না পারার আক্ষেপ; পায়ের আঙুলে চক-পেন্সিল ধরে ১৫ বছর শিক্ষকতা!
সরকারের বিরুদ্ধে আরও অসন্তোষের কারণ রয়েছে—ট্রেড ইউনিয়ন ও ছাত্র সংগঠন ভেঙে দেওয়া, সংসদ এড়িয়ে অধ্যাদেশ জারির ঘটনা, এবং কাঠমান্ডুতে উচ্ছেদ অভিযানে হাজার হাজার মানুষের গৃহহীন হওয়া। গণেশের শেষকৃত্যে এসব উচ্ছেদ হওয়া মানুষও উপস্থিত ছিলেন।
বিরোধী দল নেপালি কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহকে কঠোর সমালোচনা করেছে এবং বাস্তব পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সরকার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং ধর্মঘট প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে। গণেশ নেপালির মৃত্যু দেশের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলেছে এবং তরুণদের ক্ষোভ আরও বাড়লে সরকারের সামনে কঠিন সময় অপেক্ষা করছে।


