পবিত্র অমরনাথ যাত্রা নিয়ে জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসনের তরফ থেকে এক বড়সড় ঘোষণা সামনে এলো। আবহাওয়া দফতরের দেওয়া চরম আবহাওয়ার সতর্কবার্তাকে মাথায় রেখে আগামী ১৯ জুলাই থেকে অমরনাথ যাত্রা সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।

তীর্থযাত্রীদের সুরক্ষার কথা চিন্তা করে কাশ্মীরের ডিভিশনাল কমিশনার অংশুল গর্গ জানিয়েছেন যে ১৯ জুলাই থেকে বালটাল এবং পহেলগাম দুটি রুট দিয়েই এই যাত্রা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হবে। আগামী কয়েকদিন আবহাওয়া অত্যন্ত খারাপ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে যার কারণে পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি ছিল।
আরও পড়ুনঃ কলকাতায় করোনার থাবা! হাসপাতালে ভর্তি ১১ বছর বয়সী
প্রশাসনের জারি করা এই নির্দেশিকার ফলে রবিবার থেকে বালটাল কিংবা পহেলগামের নুনওয়ান ও চন্দনওয়াড়ি বেস ক্যাম্প থেকে কোনও তীর্থযাত্রীকে আর পবিত্র গুহার দিকে এগিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না। অন্যদিকে জম্মুর ভগবতী নগর যাত্রী নিবাস থেকেও কোনোও নতুন কনভয় বা পুণ্যার্থীবাহী গাড়িকে বেস ক্যাম্পের উদ্দেশ্যে রওনা হতে দেওয়া হবে না। জম্মুর ডিভিশনাল কমিশনার রমেশ কুমার সমস্ত তীর্থযাত্রীদের অনুরোধ করেছেন যে তারা যেন নিজেদের জন্য নির্ধারিত জম্মু, উধমপুর এবং রামবনের আবাসন কেন্দ্রগুলিতেই অবস্থান করেন এবং প্রশাসনের পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করেন।

এর আগে অবশ্য শনিবার ভোরেই ৩ হাজার ৬৩২ জন পুণ্যার্থীর ১৭ তম ব্যাচটি কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে জম্মুর বেস ক্যাম্প থেকে রওনা হয়েছিল যার মধ্যে ২ হাজার ৬২৪ জন বালটাল রুটে এবং ১ হাজার ৮ জন পহেলগাম রুট বেছে নিয়েছিলেন।
আরও পড়ুনঃ আগুনে হ্যাট্রিক সাকার, ফ্রান্সকে হারাল ইংল্যান্ড
চলতি বছরের এই বার্ষিক তীর্থযাত্রা এখনও পর্যন্ত বেশ ভালোভাবেই এগোচ্ছিল এবং তথ্য অনুযায়ী ইতিমধ্যেই ৩ লক্ষ ৬৫ হাজারের বেশি ভক্ত ৩ হাজার ৮৮০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত পবিত্র গুহায় গিয়ে বাবা বরফানির দর্শন করে পুজো দিয়েছেন। গরমের কারণে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হওয়া বরফের শিবলিঙ্গটি এবার সময়ের আগেই গলে গেলেও পুণ্যার্থীদের উৎসাহে কোনো খামতি ছিল না এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার ভক্ত এখানে পৌঁছেছেন।

তবে আপাতত পাহাড়ের বিপজ্জনক রাস্তা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কথা বিবেচনা করে এই যাত্রায় বিরতি টানা হলো। জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসনের আধিকারিকরা জানিয়েছেন যে আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হলে এবং পুরো রুটটি সম্পূর্ণ নিরাপদ কিনা তা ভালো করে খতিয়ে দেখার পরেই আবার এই যাত্রা শুরু করার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং তা দেশবাসীকে জানিয়ে দেওয়া হবে।


