নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের বিরুদ্ধে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে একাধিক বিক্ষোভের পর কলকাতা উত্তাল হয়ে উঠেছে। শুক্রবার মিছিল শেষে ‘ককরোচ’দের তোলপাড়ের সাক্ষী থাকল শহরটি। এই বিক্ষোভ ও সিজেপি-বামেদের আন্দোলনের প্রতিবাদে এবার সরাসরি পথে নামছে বিজেপি। উত্তর কলকাতার বিজেপি সংগঠন সোমবার একই রুটে ‘তিরঙ্গা যাত্রা’র পরিকল্পনা করেছে।
বিজেপি সূত্রের খবর, সোমবার বিকেল ৩টায় শিয়ালদহ স্টেশন থেকে শুরু হয়ে শিয়ালদহ ফ্লাইওভার, মৌলালি, এস এন ব্যানার্জি রোড হয়ে মিছিল পৌঁছাবে ডোরিনা ক্রসিংয়ে।
আরও পড়ুনঃ ‘শুক্রবারিরা চিহ্নিত’, সাংবাদিক নিগ্রহে কড়া শুভেন্দু
গতকালই বাংলার মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আপত্তি নেই, তবে আন্দোলনের নামে ‘দেশদ্রোহিতা’ বরদাস্ত নয়। তবুও শুক্রবার ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিং এলাকায় ‘আরশোলা’দের নজিরবিহীন বিক্ষোভের সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে জুতো ও জলের বোতল ছোড়া হয়েছে, এমনকি পুলিশের ওপর জলও ছোড়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দিল্লির মতো একাধিক স্থানে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগও উঠেছে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে এবার পালটা পথে নেমে প্রতিবাদ করবে বিজেপি। উত্তর কলকাতার বিজেপি জেলা সভাপতি স্পষ্ট করে বলেছেন, “প্রতিবাদ মানে সাংবাদিক পেটানো নয়। প্রতিবাদ মানে ভারত বিরোধী স্লোগান নয়।”
আরও পড়ুনঃ শুভেন্দু কড়া হতেই সাংবাদিক নিগ্রহের নিন্দা বাম ছাত্র নেতৃবৃন্দের; ধরনাও তুলে নিলেন ছাত্র-ছাত্রীরা
কলকাতায় সিজেপি ও বামেদের আন্দোলন মোকাবিলায় সরাসরি রাস্তায় নামছে সঙ্ঘও। ছাত্র সংগঠন এবিভিপি, শিক্ষক-অধ্যাপকদের সংগঠন এবিআরএসএম, বিএসএম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালক সংগঠন বিদ্যা ভারতীসহ একাধিক সংগঠন জেলায় জেলায় মিছিল ও পথসভা ডেকেছে। আজ থেকেই এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ‘শিক্ষা সংস্কৃতি সুরক্ষা মঞ্চ’ নামে একটি ব্যানারে এবিভিপি ও অন্য সংগঠনগুলি প্রতিবাদে সক্রিয়।
প্রসঙ্গত, দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ আন্দোলন শুরু হতেই রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছিল, বিদেশ থেকে ছাত্রদের ক্ষোভ কাজে লাগিয়ে অরাজকতা ছড়ানোর ষড়যন্ত্র চলছে। শুক্রবার সকালে দিল্লি পুলিশ এই আশঙ্কাকে প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেছে। পাকিস্তান থেকে ছাত্র বিক্ষোভের আড়ালে উসকানি দেওয়ার ষড়যন্ত্র প্রকাশ্যে এসেছে। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, হিংসার পেছনে পাক উৎসাহদানের হাত রয়েছে। পাশাপাশি ‘ভুয়ো খবর’ ছড়ানোর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, প্রায় ৪৮০ পাকিস্তানি সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডল বাতিল করা হয়েছে।
এই ঘটনাগুলো দেশের শিক্ষাঙ্গনে উত্তেজনা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপত্তা ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের প্রশ্নও তুলেছে।


