মুর্শিদাবাদ:
সরকারি প্রকল্পের ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে উপভোক্তাদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের কাটমানি নেওয়া এবং আর্থিক তছরুপের গুরুতর অভিযোগে অবশেষে গ্রেফতার হলেন মুর্শিদাবাদের জলঙ্গী ব্লকের ঘোষপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান ফিরোজ আলী। বুধবার গভীর রাতে লালবাগের একটি বেসরকারি হোটেলে অভিযান চালিয়ে তাঁকে এবং তাঁর এক ঘনিষ্ঠ পঞ্চায়েত সদস্যকে গ্রেফতার করে জলঙ্গী থানার পুলিশ। বৃহস্পতিবার ধৃতদের জেলা আদালতে হাজির করে ৭ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘোষপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান পদে থাকাকালীন ফিরোজ আলীর বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী কিংবা রাজ্য সরকারের ‘আবাস যোজনা’-র ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে দুঃস্থ মানুষদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, প্রকৃত চালচুলাহীন মানুষদের বঞ্চিত করে নিয়মবহির্ভূতভাবে পছন্দের তালিকা বানিয়ে বিশাল অংকের টাকা আত্মসাৎ করেছিলেন তিনি। এই ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে তীব্র ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হচ্ছিল।
আরও পড়ুনঃ উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের হাল ফেরাতে কড়া পদক্ষেপ
দলবদল ও আত্মগোপন: রাজ্যে রাজনৈতিক সমীকরণ পরিবর্তনের পরপরই এলাকায় নিজের অস্তিত্ব বাঁচাতে ফিরোজ আলী শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করে কংগ্রেসে যোগ দেন। তবে রাজনৈতিক আশ্রয় পরিবর্তন করলেও দুর্নীতির হাত থেকে নিস্তার মেলেনি। তদন্ত ও গ্রেফতারি এড়াতে বেশ কিছুদিন ধরেই এলাকা ছেড়ে পলাতক ছিলেন তিনি।
গোপন অভিযানে গ্রেফতার: লালবাগের একটি বেসরকারি হোটেলে প্রাক্তন প্রধান আত্মগোপন করে আছেন—গোপন সূত্রে এমন তথ্য পাওয়ার পরপরই বুধবার গভীর রাতে জলঙ্গী থানার পুলিশের একটি বিশেষ টিম সেখানে হানাদেয়। হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয় ফিরোজ আলী ও তাঁর সঙ্গে থাকা এক পঞ্চায়েত সদস্যকে।
আরও পড়ুনঃ আরও সোজা শিয়ালদহে যাতায়াত; রেলের বড় পদক্ষেপ
তদন্ত ও আদালতের নির্দেশের অপেক্ষা: বৃহস্পতিবার ধৃতদের মুর্শিদাবাদ জেলা আদালতে পেশ করে পুলিশ। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এই কাটমানি ও আবাসন দুর্নীতির জালে আরও অনেকেই যুক্ত থাকতে পারেন। আবাস যোজনার কোন কোন ফান্ড থেকে কত টাকা তছরুপ হয়েছে এবং দুর্নীতি চক্রের জাল কতদূর বিস্তৃত, তা বের করতে ধৃতদের ৭ দিনের নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আর্জি জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনাটিকে ঘিরে এলাকা জুড়ে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।


