কলকাতা: রাজ্যে জঙ্গি মডিউল ও স্লিপার সেল ভাঙতে এবার আরও বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, গুজরাট ও দিল্লি পুলিশের ধাঁচে এবার এই রাজ্যেও গঠন হতে চলেছে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন অ্যান্টি টেররিস্ট স্কোয়াড (ATS)। সেই লক্ষ্যে নবান্নের স্তরে প্রাথমিক খসড়া তৈরির কাজ শেষ হয়েছে এবং স্বরাষ্ট্র দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্তারা ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি সমন্বয় বৈঠক সেরে ফেলেছেন।
পাশাপাশি, জঙ্গি দমন ও আন্তঃরাজ্য অপরাধ রুখতে কর্মক্ষমতা বাড়াতে রাজ্য পুলিশ ও কলকাতা পুলিশের আলাদা দুটি স্পেশাল টাস্ক ফোর্সকে (STF) সংযুক্ত করে একটিই একক এসটিএফ গঠন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে রাজ্য।
কীভাবে কাজ করবে প্রস্তাবিত এই ‘ATS’?
-
শীর্ষ নেতৃত্ব: একজন আইজি (IG) পদমর্যাদার সিনিয়র আইপিএস অফিসারের অধীনে এই স্পেশাল স্কোয়াড পরিচালিত হবে। তাঁর অধীনে থাকবেন ডিআইজি (DIG), এসপি (SP) এবং অন্যান্য অভিজ্ঞতা সম্পন্ন গোয়েন্দা আধিকারিকেরা।
-
সদর দপ্তর ও আঞ্চলিক শাখা: এটিএস-এর প্রধান কার্যালয় কলকাতা বা তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে তৈরি হলেও, জঙ্গি উপদ্রব বা সীমান্ত সংলগ্ন স্পর্শকাতর জেলাগুলিতে শাখা দপ্তর (Regional Hub) খোলা হবে।
-
লক্ষ্যভিত্তিক জেলা: নবান্ন সূত্রে খবর, অতীতের জঙ্গি মডিউলের উপস্থিতি ও সীমান্ত সুরক্ষার বিষয় মাথায় রেখে মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, মালদহ, বর্ধমান এবং উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় এটিএস-এর ফিল্ড অফিস তৈরি হতে পারে।
কেন হঠাৎ এত বড় পদক্ষেপ?
সম্প্রতি রাজ্য পুলিশের এসটিএফের হাতে হামিম মণ্ডল ও তার বান্ধবী অর্পিতা সরকারের মতো একাধিক সন্দেহভাজন জঙ্গি গ্রেপ্তার হওয়ার পর চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে:
-
আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্ক: জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশ (JMB), আইএস (ISIS), আকিস (AQIS) এবং লস্কর-ই-তৈবার মতো গোষ্ঠীগুলি রাজ্যে নতুন করে নজর দিয়েছে। এদের নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছে পাকিস্তানের চক্রান্তকারী সংস্থা আইএসআই (ISI)।
-
নিয়োগ ও মগজধোলাই: সোশ্যাল মিডিয়া এবং কিছু অননুমোদিত খারিজি মাদ্রাসাকে ব্যবহার করে তরুণদের মগজধোলাই করে নতুন জঙ্গি নিয়োগের চেষ্টা চলছে।
-
ভিভিআইপি টার্গেট: রাজ্যের হাই-প্রোফাইল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও ভিভিআইপি-রা জঙ্গিদের নিশানায় রয়েছে বলে স্পষ্ট ইঙ্গিত পেয়েছেন গোয়েন্দারা।
একক এসটিএফ (STF) ও নতুন কার্যপদ্ধতি
রাজ্যে এটিএস তৈরি হলেও এসটিএফ-এর গুরুত্ব কিন্তু কমছে না। রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের দুটি পৃথক এসটিএফ ইউনিটকে একত্র করে একটি সুসংগঠিত ‘একক এসটিএফ’ গঠন করা হবে।
এটিএস মূলত সন্ত্রাসবিরোধী অপারেশন, স্লিপার সেল শনাক্তকরণ এবং সীমান্ত পারের জঙ্গি অনুপ্রবেশ ও মগজধোলাই রূখে দেওয়ার কাজ করবে। অন্যদিকে, নবগঠিত একক এসটিএফ নজর রাখবে মাদক সন্ত্রাস (Narco-Terrorism), বেআইনি অস্ত্র পাচার এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসের অর্থায়ন (Terror Funding) সংক্রান্ত অপরাধ দমনে।
দীর্ঘদিন ধরে রাজ্য এবং কলকাতা পুলিশের যেসব আধিকারিকেরা সন্ত্রাসদমনে সফল ভূমিকা নিয়েছেন, তাঁদের চিহ্নিত করেই নবগঠিত এই অ্যান্টি টেররিস্ট স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে নবান্ন।


