বোগোতা:
সোমবার তীব্র ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল পশ্চিম কলম্বিয়া। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সংস্থার (USGS) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে এই কম্পনের মাত্রা ছিল ৭.৪। সংবাদসংস্থা রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ইতিমধ্যেই অন্তত ৮২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং অসংখ্য মানুষের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ রুদ্র মেজাজে বিধায়ক সন্তু; শ্রাবণ মাসে নোংরামি তারকেশ্বরে!
ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ও প্রভাব
-
কেন্দ্রস্থল: রাজধানী বোগোতা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত চোকো (Chocó) অঞ্চলের ছোট জনপদ সান জোসে দেল পালমার।
-
কম্পনের ব্যপ্তি: কম্পন এতটাই তীব্র ছিল যে রাজধানী বোগোতার বাসিন্দারা আতঙ্কে ঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। পার্শ্ববর্তী দেশ পানামা এবং ইকুয়েডরেও কম্পন অনুভূত হলেও সেখানে বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি।
-
আক্রান্ত এলাকা: সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পশ্চিম-মধ্য কলম্বিয়ার আন্দিজ পার্বত্য এলাকার রিসারালদা (Risaralda) অঞ্চলে, যেখানে অন্তত ৪০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া ভ্যালে দেল ককা (Valle del Cauca) অঞ্চলে মৃত্যু হয়েছে প্রায় ২৭ জনের।
আরও পড়ুনঃ ৪০ মিনিটের যাত্রা এখন মাত্র ১২ মিনিটে; পাহাড়ি অঞ্চলে যোগাযোগের নতুন দিগন্ত
ভৌগোলিক কারণ ও ইতিহাস
কলম্বিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলটি অত্যন্ত ভূমিকম্প-প্রবণ ‘রিং অব ফায়ার’ (Ring of Fire) বলয়ের ওপর অবস্থিত।
কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক সংস্থার মতে, এটি গত এক দশকের মধ্যে দেশটির সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্প। সাধারণত কলম্বিয়ায় রিখটার স্কেলে ৬-এর বেশি মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প বিরল। এর আগে ১৯৯৯ সালে দেশটির আর্মেনিয়া শহরে ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্পে ১,১০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
উদ্ধারকার্য ও প্রতিকূলতা
ভূমিকম্পে বহু বাড়িঘর ও পরিকাঠামো সম্পূর্ণ ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। কেন্দ্রের কাছাকাছি অবস্থিত চোকো অঞ্চলটি ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত দুর্গম ও পিছিয়ে পড়া হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে দুর্গম এলাকায় উদ্ধারকারী দলের পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে, যা মৃতের সংখ্যা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।


