কলকাতা:
গত বছরের সেপ্টেম্বরের ভয়াবহ স্মৃতি ফিরিয়ে আগস্টের শুরুতেই নজিরবিহীন বর্ষণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ল তিলোত্তমা। মাত্র এক ঘণ্টার স্থানভিত্তিক অতিভারী বা ‘মেঘভাঙা বৃষ্টিতে’ (Cloudburst-like rain) প্লাবিত হয়ে পড়েছে উত্তর থেকে দক্ষিণ কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকা। জলের তলায় তলিয়ে গেছে অলিগলি থেকে মূল সড়ক, যা ব্যাহত করেছে স্বাভাবিক জনজীবনকে।
আরও পড়ুনঃ ভয়াবহ পরিস্থিতি; ৭.৪ মাত্রার ভয়ংকর ভূমিকম্প কলম্বিয়ায়
বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ও প্রভাবিত অঞ্চল
কলকাতা পুরসভার নিকাশি পাম্পিং স্টেশনের রেকর্ড অনুযায়ী, এক ঘণ্টার মধ্যে শহর জুড়ে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত নথিভুক্ত হয়েছে:
-
বেলগাছিয়া: ১ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৩০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।
-
ঠনঠনিয়া ও উল্টোডাঙ্গা: ঠনঠনিয়া কালীবাড়ি এলাকায় ১০০ মিমি এবং উল্টোডাঙ্গা ও দত্ত বাগান অঞ্চলে প্রায় ১০০ মিমি।
-
অন্যান্য এলাকা: বীরপাড়ায় ৯০ মিমি এবং মানিকতলায় ৮০ মিমি বৃষ্টিপাত হয়েছে।
জরুরি পরিষেবা ও জলমগ্নতার চিত্র
ভারী বর্ষণের কারণে শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য ও আবাসিক এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে:
১. হাসপাতাল ও সড়ক পরিস্থিতি: আরজি কর ট্রমা কেয়ার সেন্টারের সামনে হাঁটু সমান জল জমে গিয়ে রোগী ও তাঁদের পরিজনদের চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। ২. প্লাবিত এলাকা: মানিকতলা, শ্যামবাজার, আহিরীটোলা, টালা এবং দেশবন্ধু পার্কের মতো উত্তর ও মধ্য কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলি সম্পূর্ণ থই থই করছে। ৩. বসতবাড়িতে জল: বহু নিচু এলাকার বাসাবাড়িতে জল ঢুকে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ রুদ্র মেজাজে বিধায়ক সন্তু; শ্রাবণ মাসে নোংরামি তারকেশ্বরে!
নিকাশি ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ
পুরসভার তরফ থেকে জানানো হয়েছে, সমস্ত পাম্পিং স্টেশনগুলিতে হাই-ক্ষমতাসম্পন্ন পাম্প পুরোদমে চালু রাখা হয়েছে। তবে অল্প সময়ে অত্যধিক বৃষ্টিপাত হওয়ায় এবং ভাগীরথী ও গঙ্গার জলস্তর বেশি থাকায় নিকাশি খাল দিয়ে জল দ্রুত নামতে সমস্যা হচ্ছে। পুরসভার প্রশাসনিক তদারকি এবং দীর্ঘমেয়াদি নিকাশি কাঠামোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন দুর্ভোগে পড়া নাগরিকরা।


