নতুন বর্ণ ‘Olo’ (ওলো): বিজ্ঞানের আলোকীয় বিপ্লব ও তার গঠনশৈলী
রঙের জগতে প্রচলিত ধারণাকে বদলে দিয়ে সম্প্রতি বিজ্ঞানীদের হাতে আত্মপ্রকাশ করেছে এক নতুন আলোড়ন সৃষ্টিকারী বর্ণ—‘Olo’ (ওলো)। হাজার বছর ধরে মানুষ যে সমস্ত রঞ্জক পদার্থ বা রাসায়নিক রঙের সাথে পরিচিত, ‘Olo’ তার থেকে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী এক ভৌত আলোক তরঙ্গজাত রং।
আরও পড়ুনঃ আসছে ‘যন্তরমন্তর সিজন ২’! আন্দোলনের পথে ককরোচ জনতা পার্টি
১. ওলো (Olo) আসলে কী ধরনের রং?
‘Olo’ কোনো কৃত্রিম রাসায়নিক পিগমেন্ট (Chemical Pigment) বা তরল কালির মিশ্রণ নয়। পদার্থবিজ্ঞানের নিয়মে এটি একটি ‘স্ট্রাকচারাল কালার’ (Structural Color)।
-
প্রাকৃতিক অনুপ্রেরণা: প্রকৃতিতে ময়ূরের পেখম, প্রজাপতির রঙিন ডানা বা ঝিনুকের ভেতরের চকচকে আভা কোনো রাসায়নিক রঞ্জক দিয়ে তৈরি নয়; বরং মাইক্রোস্কোপিক কাঠামোর ওপর আলো প্রতিফলিত হয়ে যা তৈরি হয়, তা-ই হলো স্ট্রাকচারাল কালার।
-
Olo-র অনন্যতা: অত্যন্ত সূক্ষ্ম ন্যানো-স্ট্রাকচার (Nanostructures) বা মাইক্রো-মিরর গ্রিড ব্যবহার করে তৈরি Olo দৃশ্যমান আলোক বর্ণালীর (Visible Spectrum) রশিকে বিশেষ কোণে ভেঙে ফেলে, যা চোখের রেটিনায় এক অভূতপূর্ব রঙের স্পন্দন ঘটায়।
২. কেন Olo সাধারণ কাগজে বা প্রিন্টারে ছাপানো অসম্ভব?
প্রচলিত প্রিন্টিংয়ে CMYK (সায়ান, ম্যাজেন্টা, হলুদ, কালো) কালির রাসায়নিক প্রলেপ ব্যবহার করা হয়। কিন্তু Olo-র ক্ষেত্রে মুদ্রণ অসম্ভব হওয়ার প্রধান কারণসমূহ:
-
পিগমেন্টের অনুপস্থিতি: Olo কোনো তরল, পিগমেন্ট বা গুঁড়ো কালি নয়। ফলে একে কোনো কালির কার্টিজে ভরে স্প্রে করা সম্ভব নয়।
-
মাইক্রোস্কোপিক কাঠামোর বাধ্যবাধকতা: ওলো ফুটিয়ে তুলতে আলোর প্রতিফলক ন্যানো-লেয়ারের প্রয়োজন হয়। সাধারণ কাগজ বা কাপড়ের অমসৃণ ও ছিদ্রযুক্ত তলে ন্যানো-স্কেলের ভৌত গঠন তৈরি করা সম্ভব নয়।
-
রঙের পরিবর্তনশীলতা: কাগজের সাধারণ প্রিন্ট যেকোনো কোণ থেকে একই দেখায়। কিন্তু Olo আলোর গতি ও দেখার কোণের ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়, যা ফ্ল্যাট কাগজে ধরে রাখা বিজ্ঞানের নিয়মে অসম্ভব।
আরও পড়ুনঃ উলুবেড়িয়ায় ২৫০ কোটি টাকার বিনিয়োগ ঠাকার ডেইরির
৩. কীভাবে মানুষ খালি চোখে দেখতে পাবে এই নতুন রং?
যেহেতু ক্যানভাস বা কাগজে ওলো ফুটিয়ে তোলা যায় না, তাই এটি সরাসরি দেখার জন্য বিশেষ প্রযুক্তিগত মাধ্যমের প্রয়োজন:
১. উন্নত ডিসপ্লে প্রযুক্তি: উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন মাইক্রো-এলইডি (MicroLED) বা লেজার ডিসপ্লে প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশেষ ন্যানো-প্রিজম দিয়ে আলো প্রতিসারিত করে ওলো রং দেখা সম্ভব। ২. হলোগ্রাফিক ও ৩D প্রজেক্টর: ৩D হলোগ্রাফিক প্রজেক্টর বা বিশেষ লেন্স ব্যবহার করে আলোর নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্য সরাসরি রেটিনায় ফেলে এই বর্ণ অনুধাবন করা যায়। ৩. ন্যানো-কোটিং যুক্ত সারফেস: অতি-মসৃণ ধাতু বা কাচের উপরিভাগে ন্যানো-ফ্যাব্রিকেশন পদ্ধতিতে সিলিকন লাইট-গ্রেটিং কোট করে নির্দিষ্ট আলো ফেললে খালি চোখে ওলো-র দৃশ্য রূপ উপভোগ করা যায়।
প্রিন্টিং প্রেসের গণ্ডি পেরিয়ে অপটিক্যাল রিসার্চ, ডিজিটাল ডিসপ্লে এবং ভবিষ্যতের ভিজ্যুয়াল আর্টে Olo এক নতুন যুগের সূচনা করছে।


