কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
শিলিগুড়ি ও কলকাতাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের নেটওয়ার্ক গড়ার চেষ্টা করছিলেন পাক চর রানা রউফ খালিদ। গোয়েন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, ইসলামাবাদ থেকে নির্দেশ পেয়ে তিনি ‘এসপিওনেজ সেল’ গঠন করে নতুন সদস্য নিয়োগ শুরু করেছিলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে আইএসআই এজেন্টদের নিয়োগের চেষ্টা চলছিল।
মঙ্গলবার রাতে হাবড়া থেকে রানা রউফ খালিদকে গ্রেফতার করে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। কলকাতা থেকে তার সহযোগী মহম্মদ ইজাজকেও আটক করা হয়েছে। বর্তমানে তাঁরা ধারাবাহিক জিজ্ঞাসাবাদে রয়েছেন। কতটি সেল তৈরি হয়েছিল, কতজন নিয়োগ পেয়েছিল এবং কী ধরনের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছিল, তা তদন্ত চলছে।
গোয়েন্দারা জানান, রানা শুধু তথ্য সংগ্রহ করেননি, বরং শিলিগুড়ি করিডরকে কেন্দ্র করে শক্তিশালী গুপ্তচর নেটওয়ার্ক গড়ার পরিকল্পনা ছিল তার। ঢাকা থেকে করাচি বিমানে যাওয়ার পরিকল্পনাও ছিল তার, যেখানে আইএসআই সদর দফতরে ‘এসপিওনেজ সেল’ সম্পর্কিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা ছিল। সেখানে বাংলার বিভিন্ন এলাকায় জঙ্গি মডিউল সক্রিয় করার পরিকল্পনা ছিল বলে ধারণা।
রানার নেপাল-যোগও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কাঠমান্ডুতে থাকার সময় তিনি নেপালের পাঁচ আইএসআই এজেন্টের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ যোগাযোগ করতেন এবং নেপালি শিলু নামে এক মহিলাকে বিয়ে করেছিলেন। গোয়েন্দারা খতিয়ে দেখছেন তিনি শিলিগুড়ি থেকে দুইটি সিমকার্ড সংগ্রহ করেছিলেন, যা পরে নেপালে ভেঙে ফেলেন।
তদন্তকারীরা এখন রানার তৈরি সম্ভাব্য সেলগুলোর কার্যক্রম, সদস্য সংখ্যা, তথ্য আদানপ্রদান ও যোগাযোগের খোঁজে রয়েছেন। রানা জেরায় নতুন তথ্য দেয় কি না, সেটাও নজরে রাখা হচ্ছে।


