কলকাতা জুড়ে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এক অভূতপূর্ব স্তরে নিয়ে গেল লালবাজার। সাম্প্রতিককালে জইশ-ই-মহম্মদ, শাহজাদ ভাট্টি এবং আইএসআই-সমর্থিত জঙ্গি ও গুপ্তচর চক্রের হদিশ মেলার পর শহরের প্রতিটি কোণায় বাড়ানো হয়েছে অতিরিক্ত সতর্কতা।
আরও পড়ুনঃ ১৫ আগস্ট থেকে শুরু হতে পারে ওয়াটার মেট্রো পরিষেবা; হলদিয়া জেটিতে পৌঁছল এমভি কনকলতা বড়ুয়া
১. ৬,০০০ পুলিশ ও কড়া নিরাপত্তা বলয়
স্বাধীনতা দিবসের দিন সমগ্র কলকাতার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন প্রায় ৬,০০০ পুলিশকর্মী। লালবাজারের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের নেতৃত্বে এই কড়া নিরাপত্তা বলয় পরিচালিত হবে:
-
৫ জন জয়েন্ট কমিশনার
-
২০ জন ডেপুটি কমিশনার
-
৪৫ জন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার
-
জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকছে একাধিক কুইক রেসপন্স টিম (QRT)।
২. কেন্দ্র থেকে ১৯ জঙ্গির তালিকা ও রেড রোড ঘিরে কড়াকড়ি
কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা দিল্লি থেকে পাকিস্তানপন্থী, খালিস্তানি ও জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশ (JMB)-র সাথে যুক্ত ১৯ জন পলাতক জঙ্গির ছবি ও তথ্য কলকাতা পুলিশের কাছে পাঠিয়েছে। এই সতর্কবার্তার ওপর ভিত্তি করে রেড রোড ও সংলগ্ন এলাকাকে একাধিক সিকিউরিটি জোনে ভাগ করা হয়েছে:
-
রেড রোডের নিরাপত্তা: মূল কুচকাওয়াজ ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনস্থল ঘিরে বিশেষ ওয়াচটাওয়ার তৈরি করা হয়েছে। ড্রোন ও উচ্চপ্রযুক্তির নজরদারি ব্যবস্থার পাশাপাশি ওই এলাকায় মানুষের গতিবিধি কড়া আইনি পর্যবেক্ষণে থাকবে।
-
প্রবেশপথে তল্লাশি: শহরের প্রতিটি প্রবেশদ্বারে নাকা চেকিং এবং চেকপোস্টে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ‘সন্ত্রাসে মদত দিলে ফল ভুগতে হবে’, পাকিস্তানকে কড়া বার্তা রাষ্ট্রপতির
৩. হোটেল, মেট্রো ও জনবহুল এলাকায় বাড়তি সতর্কতা
-
হোটেল ও লজ পরীক্ষা: সন্দেহভাজনদের সন্ধানে কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তের হোটেল, গেস্ট হাউস এবং লজগুলিতে রাতে ও সকালে চিরুনি তল্লাশি চালাবে পুলিশ।
-
মেট্রো ও ভিড় এলাকা: সকাল থেকেই কলকাতার সমস্ত মেট্রো স্টেশন, গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও ভিড়ভাট্টা পূর্ণ এলাকাগুলিতে কড়া নজরদারি রাখা হয়েছে।
কলকাতা পুলিশ ও লালবাজারের প্রধান লক্ষ্য হলো এই উদযাপনের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করে শহরবাসীর নিরাপত্তা রক্ষা করা।


