তারাপীঠের একটি বেসরকারি হোটেলে ভোররাতের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ও দমবন্ধ হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭। ঘটনার পরপরই হোটেলটি সিল করে দেওয়া হয়েছে এবং পুলিশ হোটেলের মালিককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও সুরক্ষাবিধিতে চরম গাফিলতির অভিযোগ সামনে আসায় পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ও দমকল বাহিনী।
আরও পড়ুনঃ ভোররাতে তারাপীঠের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড; অন্তত ৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু, আশঙ্কাজনক একাধিক
যেভাবে ঘটল দুর্ঘটনা সোমবার ভোররাতে হোটেলের একতলার বিদ্যুৎ সরবরাহের এমসিবি (MCB)-তে প্রথম আগুন দেখতে পান কর্মচারীরা। তাঁরা চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করলেও মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে হোটেলে থাকা প্লাস্টিক ও ফাইবারের সামগ্রীতে দ্রুত আগুন লেগে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
গাফিলতির একাধিক অভিযোগ ও বিতর্ক ঘটনার সময় হোটেলে অবস্থানরত আবাসিকদের অভিযোগ—
-
অগ্নিকাণ্ডের সময় কোনো ফায়ার অ্যালার্ম বাজেনি।
-
সুরক্ষার জন্য থাকা এমার্জেন্সি এক্সিট (জরুরি নির্গমন) গেটটি তালাবন্ধ ছিল। পরে পুলিশ এসে সেই গেট ভাঙতে বাধ্য হয়।
-
বাধ্য হয়ে অনেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্যালকনির পাইপ দিয়ে নিচে নেমে আসেন।
অন্যদেহে, হোটেলের মালিক ও দমকল কর্মীদের একাংশের দাবি, অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ঠিকই ছিল এবং নিয়ম মেনে সিঁড়িও ছিল। তবে সিঁড়ির জানালাপত্র পুরোপুরি বন্ধ থাকায় ভেতরের কালো ধোঁয়া বের হতে পারেনি। ফলে অধিকাংশেরই দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে। তবে বিপদের সময় হোটেল কর্তৃপক্ষ কেন আবাসিকদের ডাকে সাড়া দেয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ ঘটনার পর রামপুরহাটের বিজেপি বিধায়ক ধ্রুব সাহা সরাসরি তৃণমূল নেতৃত্বাধীন তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদ (TRDA)-কে দায়ী করেছেন। তাঁর অভিযোগ, টিআরডিএ অনুমোদন দিলেও সুরক্ষা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার কাজ করেনি। দুর্নীতির কারণেই একাধিক এমন হোটেল চলছে যা বাসযোগ্য বা সুরক্ষাবিধি মানার উপযোগী নয়। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, এলাকার সব হোটেলের সুরক্ষা পরিকাঠামো দ্রুত পরীক্ষা করা হবে। পাশাপাশি উদ্ধারকাজে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় পুলিশ ও দমকলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।


