বিশেষ প্রতিনিধি, তারাপীঠ:
তারাপীঠের ‘বিদেশিনী’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর তীর্থক্ষেত্রের হোটেল ও লজগুলির সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে চরম বিশৃঙ্খলা ও অনিয়মের ছবি প্রকাশ্যে এল। বঙ্গবার্তার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে কিভাবে নিয়ম-কানুন শিকেয় তুলে পুরো তারাপীঠ এলাকাকে একটি বিপজ্জনক ‘কংক্রিটের জঞ্জালে‘ পরিণত করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ কড়া প্রশাসন, তারাপীঠে বন্ধ ১৫টি হোটেল
অব্যবস্থা ও অনিয়মের চিত্র
-
মেয়াদউত্তীর্ণ ফায়ার সেফটি: তদন্তে দেখা গিয়েছে অধিকাংশ হোটেলে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র (Fire Extinguisher) নেই। যেখানে রয়েছে, সেগুলিরও বেশিরভাগ মেয়াডোত্তীর্ণ। পর্যাপ্ত ‘এমার্জেন্সি এক্সিট’ বা জরুরি নির্গমনের পথও অনুপস্থিত।
-
জলাশয় ও রাস্তা দখল: নদী, পুকুর ও সরকারি রাস্তা দখল করে অনিয়ন্ত্রিতভাবে প্রায় ৪০০টি হোটেল ও লজ তৈরি করা হয়েছে।
-
নিয়ম লঙ্ঘন: সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ৫ তলা ভবনের ক্ষেত্রে পাশে অন্তত ৫ ফুট রাস্তা রাখার বিধান থাকলেও বাস্তবে কোথাও ১ থেকে ৩ ফুটের বেশি জায়গা ছাড়া হয়নি। ফলে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে দমকলের গাড়ি ঢোকা প্রায় অসম্ভব।
-
বিপদে স্থানীয় স্কুল: ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘তারাতীর্থ বিদ্যামন্দির উচ্চবিদ্যালয়’-এর ঢোকার মুখও অবৈধ দোকান ও লজের দখলে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে রাস্তা দখল করা হয়েছে। আগুন লাগলে ছোট চার চাকা গাড়ি বা দমকল পৌঁছানোর উপায় নেই।
আরও পড়ুনঃ শিলিগুড়ির যানজট মুক্তিতে মেগা প্ল্যান! হিমুল ক্যাটেল ফিল্ডে নতুন টার্মিনাস ও তিনবাত্তিতে ই-বাস চার্জিং স্টেশন
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
টিআরডিএ (Tarapith Rampurhat Development Authority)-র ভূমিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা। এই বিষয়ে রাজ্যের দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী জানিয়েছেন, তারাপীঠের সমস্ত হোটেলে দ্রুত বিশেষ অডিট চালানো হবে এবং অনিয়ম মিললে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


