বিশেষ প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি:
পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে উত্তরবঙ্গের চা-বাগানের জমি বিক্রি করে সেই অর্থ দলীয় ফান্ডে ও নির্বাচনের কাজে ব্যবহার করার বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ। মঙ্গলবার শিলিগুড়িতে এই অভিযোগ তুলে উত্তরবঙ্গের চা-বাগানের জমি হস্তান্তর সংক্রান্ত যাবতীয় অনিয়মের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করেছেন তিনি।
তদন্ত কমিশন ও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চিঠির তোড়জোড়
রাজ্যে দুর্নীতির তদন্তে সুভেন্দু অধিকারীর সরকারের নির্দেশে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিশনের আওতায় এই জমি কেলেঙ্কারিকেও আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
-
চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত: পর্যটনমন্ত্রী জানিয়েছেন, চা-বাগানের জমি কীভাবে এবং কার স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছিল, তার নিরপেক্ষ তদন্তের আর্জি জানিয়ে তিনি শীঘ্রই মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখবেন।
-
পূর্বতন নীতির বিরোধিতা: শংকর ঘোষ উল্লেখ করেন, তৃণমূল জমানায় চা-বাগানের অব্যবহৃত ৩০ শতাংশ জমি পর্যটন বা বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের অনুমোদনের যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, দুর্নীতির আশঙ্কায় তাঁরা সেটির তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন।
টি-ট্যুরিজম জোরদারের নতুন রূপরেখা
চা-বাগানের মূল চরিত্র ও শিল্প স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখে উত্তরবঙ্গে পর্যটন বিকাশে একগুচ্ছ নতুন পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করেছেন পর্যটনমন্ত্রী:
-
বাংলো ও হোম-স্টে গড়ে তোলা: বাগান মালিক ও সংস্থাগুলির সাথে চুক্তি করে পুরনো বাংলোগুলিতে পর্যটকদের থাকার সুব্যবস্থা করা হবে। এর পাশাপাশি চা-বাগানের ভেতরে ‘হোম-স্টে’ তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
-
১৫ শতাংশ জমির বাণিজ্যিক ব্যবহারের প্রস্তাব: বর্তমান সরকার চা-বাগানের সর্বাধিক ১৫ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রিত বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।
-
স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশ: চা-শ্রমিক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের এই টি-ট্যুরিজম প্রকল্পের সাথে সরাসরি যুক্ত করে তাঁদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতিসাধনই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।


