বিশেষ পুষ্টি প্রতিবেদন:
আজকের জেন-জি (Gen Z) ও ফিটনেস সচেতন তরুণ প্রজন্মের খাদ্যতালিকায় কৃত্রিম প্রোটিন পাউডার বা সাপ্লিমেন্ট স্থান করে নিলেও, কয়েক প্রজন্ম আগে এর কোনো অস্তিত্বই ছিল না। তবুও সেই সময়কার মানুষের শারীরিক শক্তি ও সুগঠিত পেশির অভাব হতো না। মুগুর ভাঁজা ও কঠোর পরিশ্রমের পর তাঁরা পুষ্টির জন্য ভরসা করতেন প্রোটিন ও ফাইবারে ভরপুর অত্যন্ত সহজলভ্য সব দেশজ খাবারের ওপর।
আরও পড়ুনঃ বন্ধ হচ্ছে ডাকঘর, চিঠি দেবে ড্রোন, বদলাবে রূপ! প্রযুক্তির মেলবন্ধনে ‘স্মার্ট’ হচ্ছে ইন্ডিয়া পোস্ট
ঘরোয়া খাদ্যতালিকায় প্রোটিনের উৎস ও পরিমাণ
| খাবারের নাম | গ্রহণের ধরন | ১০০ গ্রামে প্রোটিনের পরিমাণ | অন্যান্য পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা |
| ছাতু | শরবত, পরোটা, গুড়-ছাতু মাখা | ২০–২৫ গ্রাম | এটি একালের প্রোটিন শেকের দেশজ বিকল্প। দীর্ঘক্ষণ পেট ভর্তি রাখে ও এনার্জি যোগায়। |
| ছানা | তাজা ছানা, ছানার বড়া/ডালনা | ১৮–২০ গ্রাম | এতে প্রোটিনের সাথে ৯টি এসেনশিয়াল অ্যামিনো অ্যাসিড ও প্রচুর কেসিন (Casein) প্রোটিন থাকে। |
| সয়াবিন দানা | সেদ্ধ বা রান্না | ১৬–২০ গ্রাম | উদ্ভিজ প্রোটিনের অত্যন্ত শক্তিশালী উৎস। |
| ছোলা | কাঁচা, সেদ্ধ, ভাজা, অঙ্কুরিত | ৮–২০ গ্রাম (কাঁচা: ১৯-২০গ্ৰাম, সেদ্ধ: ৯গ্ৰাম, ভাজা: ২০গ্ৰাম, অঙ্কুরিত: ৮গ্ৰাম) | প্রোটিন ও আয়রনের খনি। পেশির ক্ষয়পূরণ ও সকালে প্রাতরাশ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। |
| নানারকম কলাই | বরবটি দানা, কড়াইশুঁটি, মটর, মাসকলাই, মুগ | ৮–১০ গ্রাম | প্রোটিনের পাশাপাশি ফাইবার ও আয়রনে ভরপুর, যা সারাদিনের শক্তির জোগান দিত। |
আরও পড়ুনঃ চাঞ্চল্যকর তথ্য; ৫ মাস আগেই বিপর্যয়ের চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ICIMOD
দৈনন্দিন ডালে প্রোটিনের বৈজ্ঞানিক উপকারিতা
সেকালে দিনে দু’বেলা ভাতের সাথে এক হাতা ঘন ডাল খাওয়া ছিল অনিবার্য অভ্যাস।
-
প্রোটিনের গঠন: ডালে থাকা মোট প্রোটিনের ৭০-৮০% হলো নুন-দ্রাব্য ‘গ্লোবিউলিন’ এবং ১০-২০% হলো জল-দ্রাব্য ‘অ্যালবুমিন’।
-
লাইসিন ও ভিটামিন: ডালে প্রচুর পরিমাণে ‘লাইসিন’ নামক অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে, যা শরীরে প্রোটিন তৈরিতে মূল ভূমিকা নেয়। এ ছাড়া ভিটামিন-বি ও প্রয়োজনীয় খনিজ মেলে ডাল থেকে।
কৃত্রিম প্রোটিন পাউডারের ভিড়ে দাদু-ঠাকুরদাদের এই প্রাকৃতিক ও সুষম ঘরোয়া পুষ্টি উপাদানগুলো আজও পেশি গঠন ও দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য রক্ষার সেরা বিকল্প।


