Saturday, 29 August, 2026
29 August
Homeআন্তর্জাতিক নিউজNepal: চাঞ্চল্যকর তথ্য; ৫ মাস আগেই বিপর্যয়ের চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ICIMOD

Nepal: চাঞ্চল্যকর তথ্য; ৫ মাস আগেই বিপর্যয়ের চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ICIMOD

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে প্রলয়ঙ্কারী হড়পা বানে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে রাসুয়া, ধাদিং, নুয়াকোট ও চিতওয়ানের মতো একাধিক বিস্তীর্ণ জনপদ।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি:

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে প্রলয়ঙ্কারী হড়পা বানে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে রাসুয়া, ধাদিং, নুয়াকোট ও চিতওয়ানের মতো একাধিক বিস্তীর্ণ জনপদ। সরকারি হিসেবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬৯ এবং নিখোঁজ এখনও হাজার হাজার মানুষ। তবে এই ধ্বংসলীলা কেবলই দুর্ঘটনা নয়; কাঠমান্ডুভিত্তিক আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ‘ইসিমোড’ (ICIMOD)-এর এক চাঞ্চল্যকর রিপোটে প্রকাশ পেয়েছে যে, এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি অন্তত ৫ মাস আগেই দেওয়া হয়েছিল!

আরও পড়ুনঃ আশঙ্কাই হল সত্যি, ফাটল লেক, ৫.১ মাত্রার ভূমিকম্প চিনে; নেপালকে জরুরি সতর্কতা ও উদ্ধারকাজ স্তব্ধ

পাঁচ মাস আগের রিপোর্টে ইসিমোডের কড়া সতর্কতা

হিন্দু কুশ হিমালয় (HKH) অঞ্চলের পরিবেশ পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা ICIMOD তাদের দুটি গবেষণা রিপোর্টে—‘Changing Dynamics of Glaciers in the HKH Region’ এবং HKH Glacier Outlook 2026-এ পূর্বাভাস দিয়েছিল:

  • বরফ গলার হার দ্বিগুণ: ২০০০ সালের পর থেকে হিমালয়ের উচ্চভাগে বরফ গলার হার প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ১৯৭৫ সালের পর থেকে হিমবাহের প্রায় ২৭ মিটার পুরু বরফের আস্তরণ হারিয়ে গিয়েছে।

  • বিপুল আয়তন হ্রাস: ১৯৯০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে উচ্চ হিমালয়ের হিমবাহগুলি তাদের মোট আয়তনের ১২% এবং গচ্ছিত বরফের ৯% হারিয়েছে।

  • গ্লেসিয়াল লেক বিস্ফোরণের ঝুঁকি: অতিরিক্ত বরফ গলে কৃত্রিম হ্রদ তৈরি হওয়া এবং তা ফেটে ‘গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট’ (Glacial Lake Outburst) বা হড়পা বানের প্রবল ঝুঁকি তৈরি হওয়ার পূর্বাভাস আগেই দেওয়া হয়েছিল, যার ওপর ভাটি অঞ্চলের প্রায় ২০০ কোটি মানুষের জীবন নির্ভরশীল।

কীভাবে নামল এই প্রলয়ঙ্কারী বান?

ইসিমোডের বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক সমীক্ষা অনুসারে:

  • বরফ ও পাথরের ধস: বুধবার নেপাল ও তিব্বত সীমান্তের উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে লেন্দে নদীর কাছে একটি বিশাল ‘আইস-রক অ্যাভাল্যাঞ্চ’ (Ice-Rock Avalanche) বা বরফ-পাথরের ধস নামে।

  • নদীর অববাহিকায় প্লাবন: এই ধসের ফলে ভোতে কোশী এবং ত্রিশূলী নদীর অববাহিকায় লাখ লাখ টন জল, কাদা ও বোল্ডার একত্রিত হয়ে নিমেষেই প্লাবনের আকারে আছড়ে পড়ে, যা নদী তীরবর্তী আস্ত গ্রাম ও শহরকে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়।

আরও পড়ুনঃ ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক; ৫ গুণ শক্তিশালী হড়পা বান ধেয়ে আসছে নেপালে

আগাম সতর্কতা ও আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের আহ্বান

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হিমালয়ের ‘ক্রায়োস্ফিয়ার’ (বরফাবৃত অঞ্চল) যে আজ এক আশঙ্কাজনক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রয়েছে, তা মনে করিয়ে দিয়ে ইসিমোড স্পষ্ট জানিয়েছে—ভারত, নেপাল, চিন ও ভুটানের মতো প্রতিবেশী দেশগুলির দ্রুত যৌথ ‘আর্লি-ওয়ার্নিং সিস্টেম’ (Early-Warning System) গড়ে তোলা উচিত। আগাম সতর্কতা ব্যবহারে অবহেলা না করলে এত মানুষের জীবনহানি এড়ানো সম্ভব হতো বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন