Thursday, 27 August, 2026
27 August
Homeআন্তর্জাতিক নিউজNepal: আচমকা ‘জলবোমা’ ফাটল কেন? নেপালে ভয়াল বন্যার পিছনে মোড় ঘোরানো তথ্য

Nepal: আচমকা ‘জলবোমা’ ফাটল কেন? নেপালে ভয়াল বন্যার পিছনে মোড় ঘোরানো তথ্য

বিশদ অনুসন্ধানে উপগ্রহ চিত্র খতিয়ে দেখে চমকপ্রদ তথ্য প্রকাশ করেছেন ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ISRO) এবং ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূবিজ্ঞানী ড্যানিয়েল শুগার।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ

ভাদ্রের নীল আকাশের নীচে, কোনো মেঘভাঙা বৃষ্টি ছাড়াই অচিন্তনীয় বিপর্যয়ের মুখে নেপাল। কীভাবে নামল এই ভয়াল ‘জলবোমা’? ঘটনার বিশদ অনুসন্ধানে উপগ্রহ চিত্র খতিয়ে দেখে চমকপ্রদ তথ্য প্রকাশ করেছেন ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ISRO) এবং ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূবিজ্ঞানী ড্যানিয়েল শুগার।

আরও পড়ুনঃ নেপালে ভয়াবহ হড়পা বান; আটকে পড়লেন আরামবাগের ৬৫ জন পর্যটক, যোগাযোগের সমস্যায় চরম দুশ্চিন্তায় পরিবার

ভূমিকম্প নয়, ৪০০০ ফুট নিচে আছড়ে পড়েছিল ২০০০ ফুট চওড়া হিমবাহ

প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পের কথা ভাবা হলেও, মার্কিন ভূতত্ত্ব সর্বেক্ষণ এবং বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন যে কোনো সাধারণ ভূমিকম্প হয়নি।

  • হিমবাহ বিস্ফোরণ: সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৭,০০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত মূল হিমবাহ থেকে ২০০০ ফুট চওড়া একটি বিশালাকার টুকরো হঠাৎ ভেঙে সটান ৪,০০০ ফুট নিচে তিব্বতের লেন্ডে নদীতে আছড়ে পড়ে।

  • ‘জলবোমা’র সৃষ্টি: এই বিরাট তুষারধসের (Ice Avalanche) ওজনেই মাটি কেঁপে ওঠে (যা ৫.২ মাত্রার কম্পন হিসেবে রেকর্ড হয়)। নদীর বুকে বরফ, পাথর, কাদা ও জল মিশে চোখের পলকে তা খ্যাপা ‘জলবোমা’র রূপ নেয়।

  • বিহ্বল জলস্তর: ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট-এর তথ্য অনুযায়ী, নেপালের গালচির কাছে মাত্র ৩০ মিনিটে ত্রিশূলি নদীর জলস্তর ৯ মিটার এবং মালেখুর কাছে ৭ মিটার পর্যন্ত বেড়ে যায়, যা তীরবর্তী মানুষকে পালানোর সুযোগই দেয়নি।

আরও পড়ুনঃ দুর্যোগে আটকে খরাজ, অনিশ্চিত কলকাতায় ফেরা

বিপর্যয়ের মাত্রা বহুগুণ বাড়াল মানবসৃষ্ট কারণ

বিজ্ঞানীদের মতে, প্রকৃতির এই খামখেয়ালিপনার পেছনে মানুষের নানা অনিয়ন্ত্রিত ক্রিয়াকলাপ বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে:

  • বিশ্ব উষ্ণায়ন: উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে হিমবাহের দ্রুত গলন ও ফাটল এই ধসের প্রধান কারণ।

  • জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বাঁধ ভাঙা: নেপালের ২০টি সেতু ও ১৩টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ধসে পড়েছে। বাঁধে জমানো জল নদীর তোড়ের সাথে মিশে এর ধ্বংস ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয় (যেটি ২০২১-এর উত্তরাখণ্ড ও ২০২৩-এর সিকিম বিপর্যয়েও দেখা গিয়েছিল)।

  • অসংবেদনশীল নির্মাণ: নদীখাত ও প্লাবনভূমি দখল করে অনিয়ন্ত্রিত বাড়িঘর তৈরির ফলে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির ব্যাপ্তি বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে।

হাজার হাজার মানুষের ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ার আশঙ্কায় থমথমে গোটা নেপাল। বিজ্ঞানীদের অনুমান, তুষারধসের পাশাপাশি কোনো হিমবাহ-হ্রদ (Glacial Lake) ফেটেছিল কি না, তাও গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন