Friday, 28 August, 2026
28 August
Homeআন্তর্জাতিক নিউজNepal: নেপালে হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা ৩৫০ পার; নিখোঁজ ২৯০ ভারতীয়, নতুন...

Nepal: নেপালে হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা ৩৫০ পার; নিখোঁজ ২৯০ ভারতীয়, নতুন করে ধসে ফের প্লাবনের আশঙ্কা চিনের

ভারতীয় বায়ুসেনা সরাসরি উদ্ধারকাজে হাত লাগিয়েছে।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি:

নেপালের রসুয়া জেলায় ভোটেকোশী নদীর প্রলয়ংকারী হড়পা বানে ধ্বংসলীলার ছবি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। শেষ পাওয়া খবরে সে দেশের সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, বিভিন্ন জেলা থেকে উদ্ধার হওয়া মৃতদেহের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫৯। আট শতাধিক মানুষ এখনও নিখোঁজ, যার মধ্যে প্রায় ২৯০ জন ভারতীয় পর্যটক ও শ্রমিক রয়েছেন। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কায় উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে সেনা ও উদ্ধারকারী দল।

আরও পড়ুনঃ প্রমিস করলেন; ‘খাবার নিয়ে আসছি!’ বিপর্যস্ত নেপালের পাশে সোনু সুদ

নিখোঁজ ২৯০ ভারতীয় ও উদ্বেগে কলকাতা

বিপর্যয়ের দিনে সবচেয়ে উদ্বেগজনক খবর ভারতীয় পর্যটক ও কর্মীদের ঘিরে:

  • মানস সরোবর যাত্রীরা নিখোঁজ: কলকাতা থেকে যাওয়া ৩২ জনের একটি পর্যটক দল দেড় দিন ধরে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী তাঁরা বানের কবলে পড়া এলাকার অভিবাসন দপ্তরে ছিলেন।

  • ত্রিশূলি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মীরা: আক্রান্ত এলাকায় আটকে পড়া ৭৩ জন ভারতীয় শ্রমিকের মধ্যে ৬৩ জনকে এবং তামিলনাড়ুর ২১ জন পর্যটককে নিরাপদে উদ্ধার করা গিয়েছে।

  • তিব্বতে আটকে পর্যটকেরা: তিব্বতের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় (যেমন দারচেন, জিলং, জ়ুটুলফু) প্রায় ২০০ জন ভারতীয় আটকে রয়েছেন, যাঁদের নেপালে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

  • ভারতের সহায়তা: বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর নেপাল ও চিনের ভারতীয় রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেছেন। ভারতীয় বায়ুসেনা সরাসরি উদ্ধারকাজে হাত লাগিয়েছে।

চিনের নতুন সতর্কতা ও ভূ-তাত্ত্বিক কারণ

  • কৃত্রিম হ্রদ তৈরি ও নতুন ঝুঁকি: তিব্বত-নেপাল সীমান্তে পাহাড়ে ধস নেমে ‘ছোছেন খোলা’ ও ‘পুরেপু সাংপো’ নদীর গতিপথ রুদ্ধ হয়ে বিরাট জলাশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। চিনের সতর্কবার্তা, আগামী ৩ দিনে সেখানে ৩০ লক্ষ ঘনমিটার জল জমা হতে পারে। সেই বাঁধ ভাঙলে নতুন করে প্রাণঘাতী বান নামবে।

  • চিনের সাফাই: চিনা বাঁধের কারণে বান আসার অভিযোগ উড়িয়ে কাঠমান্ডুর চিনা দূতাবাস জানিয়েছে, ২৬ অগস্ট হিমবাহ ধস ও কাদার স্রোত উভয় দেশের সীমান্তেই বিপর্যয় ডেকে এনেছে।

  • ভূতাত্ত্বিক গঠন: বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরেশীয় ও ভারতীয় টেকটনিক পাতের ঘর্ষণের ফলে প্রতি বছর মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা ৫ মিলিমিটার বাড়ছে। নবীন পর্বতমালা হওয়ায় এই অঞ্চলে ভূ-তাত্ত্বিক চাপ জমা হয়ে ঘন ঘন ভূমিকম্প ও ধসের ঘটনা ঘটছে।

আরও পড়ুনঃ স্কুটারকে বাঁচাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেল বিয়েবাড়ির বাস; মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আহত অন্তত ৩৫

বিহারে কোশী নদীর বিপদ ও ভারতের আশঙ্কা

নেপালের এই ধ্বংসলীলার প্রভাব ভারতের ওপরও পড়তে শুরু করেছে:

  • বিহারে কোশীর গতিপথ পরিবর্তনের ভয়: নেপালের বানের জল নেমে এসে বিহারের কোশী নদীর জলস্তর বিপদসীমার ওপরে নিয়ে গিয়েছে। বিপুল পলি জমার কারণে কোশী নদী যে কোনো মুহূর্তে গতিপথ বদলে নতুন এলাকা প্লাবিত করতে পারে (যেমনটা ১৯৫৪, ১৯৬৮ ও ২০০৮ সালে ঘটেছিল)।

  • অরুণাচল প্রদেশের ওপর কালো ছায়া: বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, চিনের মেডোগ এলাকায় ব্রহ্মপুত্রের ওপর তৈরি হতে চলা ৬০ হাজার মেগাওয়াটের জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি অত্যন্ত ভূকম্পপ্রবণ চ্যুতিরেখায় অবস্থিত। ভবিষ্যতে সেখানে অনুরূপ বিপর্যয় ঘটলে ভারতের অরুণাচল প্রদেশ সম্পূর্ণ ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন