বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি:
মাত্র চার বছর বয়সে যে অনুভূতিগুলোকে মনে হতো আগ্নেয়গিরির মতো, সেই আবেগকেই বইয়ের পাতায় ফুটিয়ে তুলেছিল ভুবনেশ্বরের খুদে অন্বি বিশাল আগরওয়াল। বর্তমানে তার বয়স ছয় বছর। এই বয়সেই দুটি মর্যাদাপূর্ণ গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের (Guinness World Records) মালিক হয়ে ভারতের নাম আন্তর্জাতিক স্তরে উজ্জ্বল করেছে সে। দ্বিভাষিক বই প্রকাশ এবং টেডএক্স (TEDx) মঞ্চে সর্বকনিষ্ঠ মহিলা বক্তা হিসেবে নজির গড়েছে এই খুদে প্রতিভা।
আরও পড়ুনঃ প্রলয়ঙ্কারী বানের মুখে অটুট ‘সবুজ বাড়ি’; অলৌকিকভাবে রক্ষা পেল আটকে পড়া নেপালি পরিবার
প্রথম রেকর্ড: চার বছরেই দ্বিভাষিক বই ও ছবি আঁকা
অন্বির লেখা প্রথম বই ‘লিটল গার্ল, বিগ ইমোশনস’ (Little Girl, Big Emotions) একই সঙ্গে ইংরেজি ও স্প্যানিশ—দুই ভাষায় প্রকাশিত হয়।
-
বই প্রকাশের বয়স: মাত্র ৪ বছর ২৫৪ দিন বয়সে এই বইটি প্রকাশ করে সে সর্বকনিষ্ঠ দ্বিভাষিক মহিলা লেখকের রেকর্ড অর্জন করে।
-
চিত্র অলঙ্করণ: বইটির লেখা এবং তার ভেতরের সমস্ত ছবি অন্বি নিজেই এঁকেছে।
-
সফলতা: গিনেস রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, প্রকাশের প্রথম সপ্তাহেই বইটির ১,১৬৭টিরও বেশি কপি বিক্রি হয়ে যায়। লন্ডনে গিনেসের সদর দফতরেও তাকে সংবর্ধিত করা হয়েছে, যেখানে গিনেসের ২০২৭ সংস্করণে অন্বির জন্য একটি সম্পূর্ণ পাতা রাখা হয়েছে।

দ্বিতীয় রেকর্ড: সর্বকনিষ্ঠ টেডএক্স (TEDx) বক্তা
প্রথম রেকর্ডের প্রায় এক বছর পর অন্বি দ্বিতীয় গিনেস রেকর্ডটি অর্জন করে। ‘ক্রিয়েটিভিটি ইজ আ সুপারপাওয়ার’ (সৃজনশীলতাই এক অলৌকিক ক্ষমতা) বিষয়ের ওপর চার মিনিটের একটি তথ্যপূর্ণ ও অনুপ্রেরণামূলক বক্তৃতা দিয়ে সে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ মহিলা টেডএক্স বক্তার শিরোপা লাভ করে।
আরও পড়ুনঃ হলদিয়ায় রওনা দিল প্রথম ট্যাঙ্কার, অশোকনগর তেলক্ষেত্র থেকে শুরু বাণিজ্যিকভাবে তেল উৎপাদন
শিল্পকর্ম ও পরিবেশভাবনা
লেখালেখির পাশাপাশি চিত্রকলা এবং পরিবেশ সচেতনতায় অন্বির অবদান নজরকাড়া:
-
চিত্র প্রদর্শনী: মাত্র দুই বছর বয়সেই ৭২টিরও বেশি ছবি এঁকে ফেলেছিল সে। মুম্বই, গুরুগ্রাম এবং দুবাইয়ে তার আঁকা ছবির প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
-
অন্বি হ্যাপিনেস ফাউন্ডেশন: ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত তার এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব জীবনযাত্রার বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে।
মাত্র চার বছর বয়সে নিজের আবেগকে প্রকাশ করার যে চেষ্টা অন্বি শুরু করেছিল, ছয় বছর বয়সে তা পৌঁছে গেছে বিশ্বমঞ্চে। জোড়া গিনেস রেকর্ডের এই অভাবনীয় সাফল্যকে নিজের মিষ্টি ভঙ্গিতে অন্বি তুলনা করেছে—“একসঙ্গে দুটো আইসক্রিম খাওয়ার মতোই আনন্দের!”


