বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি:
হিমালয়ের কোলে নেপালে প্রলয়ঙ্করী বিপর্যয়ের চরম রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সুদূর আমেরিকায় প্রকৃতির ধ্বংসলীলা। বিশ্বখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র অ্যারিজোনা প্রদেশের ‘গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন’ ন্যাশনাল পার্কে (Grand Canyon National Park) কলোরাডো নদীতে আচমকা নামা হড়পা বানের (Flash Flood) তোড়ে ভেসে গিয়েছেন অন্তত ২০ জন পর্যটক। তবে উদ্ধারকারী দলের তৎপরতায় এ পর্যন্ত ৬২ জনকে নিরাপদে আকাশপথে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ নেপালের মর্গে মর্গে ভয়াবহ দৃশ্য, দেওয়া হচ্ছে গণকবর
ঘটনার বিবরণ ও ক্ষয়ক্ষতি
-
সময় ও স্থান: স্থানীয় সময় অনুযায়ী শনিবার দুপুর আড়াইটে নাগাদ গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের বিখ্যাত ‘ব্রাইট অ্যাঙ্গেল’ খাঁড়ি অঞ্চল থেকে কাদামাটি ও পলিযুক্ত জলের প্রচণ্ড স্রোত আচমকা কলোরাডো নদীতে এসে আছড়ে পড়ে।
-
পরিকাঠামোগত ধ্বংস: জলচ্ছ্বাসের তীব্রতায় ক্যানিয়ন চত্বরের ভারী পাথরখণ্ড ও লোহার কাঠামো ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। নদীর ওপর পর্যটকদের যাতায়াতের একমাত্র ফুটব্রিজটিও জলের তোড়ে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে।
-
এয়ারলিফ্ট অভিযান: জলক্রীড়ার জন্য পর্যটকদের জনপ্রিয় কেন্দ্র ‘ফ্যান্টম র্যাঞ্চ’ থেকে দ্রুত হেলিকপ্টারে চাপিয়ে ৬২ জন পর্যটককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ হরমুজ প্রণালী ঘিরে তীব্র সংঘাত; লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলার জবাবে জর্ডনে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের মিসাইল হামলা
উদ্ধার অভিযান ও আবহাওয়ার সতর্কতা
| বিষয় | বর্তমান পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ |
| নিখোঁজ পর্যটক | জলের স্রোতে তলিয়ে যাওয়া অন্তত ২০ জন পর্যটকের খোঁজে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে অ্যারিজোনা পুলিশ ও ন্যাশনাল পার্কের বিশেষ উদ্ধারকারী দল। |
| আবহাওয়া দফতরের বার্তা | স্থানীয় আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, এলাকায় অতিরিক্ত ভারী বর্ষণের ফলেই এই আচমকা কাদা-জলের ধস। সোমবারও ওই অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির কড়া পূর্বাভাস রয়েছে, যা উদ্ধারকার্যে চরম বাধা তৈরি করতে পারে। |
নেপাল ও আমেরিকার বিপর্যয়ের তুলনা
গত বুধবার সকালেই নেপালের ভোটেকোশী ও ত্রিশূলী নদীতে হিমবাহ ও শিলাস্তরের ধসের ফলে ভয়াবহ হড়পা বান নেমে আসে। রবিবার বিকেল পর্যন্ত নেপালে মৃতের সংখ্যা ৭৮১ জন এবং নিখোঁজের সংখ্যা ২,৫০২ জন ছাড়িয়েছে। নেপালের পর গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের এই ঘটনায় বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তন ও আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে চরম উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।


