বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি, মালদহ:
বউদির প্রেমে অন্ধ হয়ে নিজের স্ত্রীকে নৃশংসভাবে হত্যা করল এক যুবক। স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে খুনের পর তাঁর রক্তসংক্রান্ত দেহ ঘরের ভেতরে খাটের নিচে লুকিয়ে রাখার অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। মালদহের ইংরেজবাজার থানার সাতটারি এলাকায় এই হাড়হিম করা ঘটনার পর অভিযুক্ত স্বামী ও তার বউদিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ঘটনার নেপথ্যে বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে:
-
মৃতার পরিচয়: নিহত বধূর নাম শিলা বিবি (২৫)। আট বছর আগে মানিকচক থানার এনায়েতপুর এলাকার শিলার সঙ্গে সাতটারির বাসিন্দা মোজাম্মেলের বিয়ে হয়। তাঁদের দুটি সন্তানও রয়েছে।
-
পরকীয়া ও অশান্তি: পেশায় ভিনরাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিক মোজাম্মেল বিগত কয়েক মাস ধরে নিজের বউদির সঙ্গে বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এই পরকীয়ার কথা জানাজানি হতেই পরিবারে নিত্যদিন তীব্র অশান্তি লেগে থাকত।
আরও পড়ুনঃ সিবিআইকে ডেডলাইন কলকাতা হাইকোর্টের, দ্বিতীয় দফার তদন্ত তিন সপ্তাহে শেষ করতে হবে
নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও দেহ গুমের চেষ্টা
ঘটনার দিন একই বিষয় নিয়ে পুনরায় ঝামেলা শুরু হলে মেজাজ হারিয়ে মোজাম্মেল স্ত্রী শিলা বিবির ওপর চড়াও হয়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে সে স্ত্রীর গলা কেটে দেয়।
-
খাটের নিচে দেহ: খুনের পর রক্তে ভেসে যাওয়া মরদেহ লোকচক্ষুর আড়ালে লুকিয়ে রাখতে সে ঘরের ভেতর খাটের নিচে গুঁজে রাখে।
-
বাসিন্দাদের সন্দেহ ও পুলিশি পদক্ষেপ: প্রতিবেশীরা বিষয়টি আঁচ করতে পেরে ঘরে ঢোকেন এবং খাটের নিচে শমালদহের ইংরেজবাজার থানার সাতটারি এলাকায় ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনার মূল তথ্যগুলি নিচে তুলে ধরা হলো:
-
ঘটনা: পরকীয়ার কারণে স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে খুন এবং দেহ ঘরের ভেতরে খাটের নিচে লুকিয়ে রাখার অভিযোগ।
-
মৃত ব্যক্তি: শিলা বিবি (২৫)। তাঁর বাপের বাড়ি মালদহের মানিকচক থানার এনায়েতপুরে।
-
মূল অভিযুক্ত: মোজাম্মেল (মৃতার স্বামী), পেশায় ভিনরাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিক।
-
খুনের কারণ: মোজাম্মেলের সঙ্গে তাঁর নিজের বউদির বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক তৈরি হয়। এ নিয়ে পরিবারে ক্রমাগত অশান্তি চলছিল। সেই কলহের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড।
-
ঘটনাচক্র ও গ্রেপ্তার: অভিযুক্ত স্বামী স্ত্রীর দেহ খাটের নিচে লুকিয়ে রাখলেও স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি বুঝতে পেরে ইংরেজবাজার থানায় খবর দেন। পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় এবং অভিযুক্ত স্বামী ও তাঁর বউদিকে গ্রেপ্তার করে।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।


