Saturday, 5 September, 2026
5 September
Homeদক্ষিণবঙ্গMurshidabad: বদলে যাবে ভূগোল? মানচিত্র থেকে মুছে যাবে বহু এলাকা! অস্তিত্ব সংকটে...

Murshidabad: বদলে যাবে ভূগোল? মানচিত্র থেকে মুছে যাবে বহু এলাকা! অস্তিত্ব সংকটে বাংলা

যে কোনো মুহূর্তে গঙ্গার দুই ধারা—ভাগীরথী ও পদ্মা এক হয়ে মিশে যেতে পারে।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি:

নিউ ফরাক্কা স্টেশনের কাছে সাম্প্রতিক রেললাইনে ধস কেবল উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ট্রেন ট্র্যাফিক স্তব্ধ করেনি, বরং এক মহা-বিপর্যয়ের সংকেত দিচ্ছে। নদী বিশেষজ্ঞদের মতে, বিপদ লুকিয়ে রয়েছে ভূগর্ভ ও ভৌগোলিক অবস্থানের আরও গভীরে। যে হারে ভাঙন ও মাটি ধসের ঘটনা ঘটছে, তাতে যে কোনো মুহূর্তে গঙ্গার দুই ধারা—ভাগীরথী ও পদ্মা এক হয়ে মিশে যেতে পারে। আর তা হলে মুর্শিদাবাদ ও মালদহের বিস্তীর্ণ জনপদ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বদলে যেতে পারে পশ্চিমবঙ্গের ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক মানচিত্র।

আরও পড়ুনঃ  বাইরে নয়, মঙ্গলের ‘অন্তরেই’ বিপুল বৈষম্য; উত্তর গোলার্ধের চেয়ে ২০০ থেকে ৪০০ ডিগ্রি বেশি গরম দক্ষিণ গোলার্ধ

ভৌগোলিক অবস্থান ও দেড় কিলোমিটারের বিপজ্জনক ব্যবধান

নিউ ফরাক্কা স্টেশনের ভৌগোলিক সংবেদনশীলতা পরিস্থিতিকে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক করে তুলেছে:

  • দুই ধারার মাঝে সংকীর্ণ স্থলভাগ: ফরাক্কা স্টেশনের এক পাশে মূল স্রোত (পদ্মা) এবং অন্য পাশে গঙ্গার প্রধান শাখা (ভাগীরথী বা হুগলি নদী)। বর্তমানে এই দুই ধারার মধ্যকার স্থলভাগের দূরত্ব মাত্র দেড় কিলোমিটার

  • যেসব এলাকা বিলুপ্তির মুখে: এখনই স্থায়ী ভাঙন প্রতিরোধ ব্যবস্থা না নিলে ধুলিয়ান, বল্লারপুরের মতো প্রাক-ঐতিহাসিক ও ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চল চিরতরে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।

  • যোগাযোগ ব্যবস্থার স্থায়ী ক্ষতি: সাময়িকভাবে রেলপথ মেরামত করা গেলেও, দুই নদী মিশে গেলে দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গের মূল সড়ক ও রেল যোগাযোগ চিরতরে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে।

আরও পড়ুনঃ  “ভেঙে পড়তে নেই, হেরে যেতে নেই!” সততা ও লড়াইয়ের দিশারী ‘উদয়ণ পণ্ডিতদের’ উদ্দেশ্যে বিনম্র প্রণাম বঙ্গবার্তার

সংকটের ঐতিহাসিক নেপথ্য ও বিশেষজ্ঞ অভিমত

নদী বিশেষজ্ঞ কৌশিক চক্রবর্তীর মতে, এই দুর্যোগের মূল বীজ বোনা হয়েছিল ১৯৯৬ সালের ঐতিহাসিক ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা জলচুক্তির পর থেকে:

সময়কাল ও ঘটনা নদী ও পরিবেশের ওপর প্রভাব
ফরাক্কা বাঁধ ও জলচুক্তি (১৯৯৬) ফরাক্কা বাঁধ তৈরির পর কলকাতা বন্দরকে জল দেওয়ার পাশাপাশি জলচুক্তির শর্ত মেনে বাংলাদেশকে জল ছাড়া শুরু হয়। এর পরপরই নদীর উজান বা আপস্ট্রিমে চর বা পলি জমতে শুরু করে।
ভাঙনের তীব্রতা বৃদ্ধি ডাউনস্ট্রিমে জলপ্রবাহ শুকিয়ে যাওয়া এবং উজানে পলি জমে নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কারণে বিগত কয়েক বছর ধরে ফরাক্কা অঞ্চলে নদীভাঙন চরম আকার ধারণ করেছে।
ভবিষ্যৎ আশঙ্কা দেড় কিলোমিটারের অবশিষ্ট ডাঙ্গাটুকু গ্রাস করলে পশ্চিমবঙ্গের সামগ্রিক অর্থনীতি ভেঙে পড়বে এবং সমগ্র অঞ্চলের জনসংখ্যা ও সম্পদ জলে তলিয়ে যাবে।

রেল কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে লাইন সংস্কার করলেও, রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সেচ দফতর যৌথভাবে স্থায়ী বাঁধ ও নদীভাঙন রোখার কড়া পদক্ষেপ না নিলে ফরাক্কার এই ধস এক বিশাল জাতীয় বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন