কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথমবার রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে আয়োজিত হতে চলেছে শারদীয়া দুর্গাপুজো। বিদ্যাদেবী সরস্বতী ও বিশ্বকর্মা পুজোর পর এবার সনাতনী রীতি ও পৌরাণিক উপাচার মেনে দেবী উমার আরাধনায় শামিল হচ্ছেন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের ছাত্র-ছাত্রী থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারাও। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০ বছরের পুজো ঐতিহ্যের ছোঁয়া এবার পেতে চলেছে উত্তর দিনাজপুরের এই প্রথম সারির উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি।
আরও পড়ুনঃ পুজোর মুখে ১০৮ পদ্মের তীব্র আকাল; আকাশছোঁয়া খড় ও মাটির দামেও সঙ্কটে প্রতিমা শিল্পীরা
পুজোর প্রস্তুতি, কুমারী পুজো ও চণ্ডীপাঠ
বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেল ময়দানে মণ্ডপ গড়ে আয়োজিত হতে চলা এই পুজোর মূল আকর্ষণগুলি:
-
সংস্কৃত শিক্ষকের চণ্ডীপাঠ: হস্টেল ময়দানে মৃন্ময়ী দেবীর বোধন ও শাস্ত্রীয় মন্ত্রোচ্চারণ করবেন বিশ্ববিদ্যালয়েরই সংস্কৃত বিভাগের অধ্যাপক প্রশান্ত মহলা।
-
অষ্টমীতে কুমারী পুজো: পৌরাণিক রেওয়াজ মেনে মহাঅষ্টমীর শুভ সকালে ‘কুমারী’ পুজোর বিশেষ আয়োজন নিয়ে জোর আলোচনা ও প্রস্তুতি চলছে।
-
মহাপ্রসাদ বিতরণ: অষ্টমীর দুপুরে সমস্ত ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের জন্য থাকছে খিচুড়ি ও হরেক রকমের সবজির অঢেল প্রসাদী আয়োজন।
আরও পড়ুনঃ “ভেঙে পড়তে নেই, হেরে যেতে নেই!” সততা ও লড়াইয়ের দিশারী ‘উদয়ণ পণ্ডিতদের’ উদ্দেশ্যে বিনম্র প্রণাম বঙ্গবার্তার
বাজেট ও অর্থসংস্থানের মডেল
বিশ্ববিদ্যালয় তহবিলের সরাসরি ব্যবহার না করে কীভাবে সামাল দেওয়া হচ্ছে পুজোর খরচ:
| বিষয় | গৃহীত সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক তথ্য |
| পুজো কমিটির নেতৃত্ব | পিজি কাউন্সিলের সচিব দিগন্ত বিশ্বাসকে পুজো কমিটির সম্পাদক পদে রাখা হয়েছে। |
| প্রাথমিক বাজেট | সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত পুজো সম্পন্ন করার জন্য প্রাথমিকভাবে দেড় লক্ষ টাকা বাজেট ধরা হয়েছে। |
| স্পনসরশিপ ও ফান্ডিং | বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল থেকে অর্থ খরচ করা হবে না। সারা বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন সামগ্রী সরবরাহকারী সংস্থাগুলির (Vendors) আর্থিক সাহায্য ও স্পনসরশিপের ভিত্তিতেই উৎসব কমিটি এই পুজো পরিচালনা করবে। |
উপাচার্য অর্ণব সেন জানিয়েছেন, কম বাজেটে স্পনসরদের সহযোগিতায় এই শারদোৎসবের সূচনা হচ্ছে, যা রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের মধ্যে সম্প্রীতি ও উৎসবের আনন্দকে বহু গুণ বাড়িয়ে তুলবে।


